
Rekha Sharma
শেষ আপডেট: 5 March 2024 19:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্দেশখালির গ্রাউন্ড জিরোয় পৌঁছে জাতীয় মহিলা কমিশন বলেছিল, পরিস্থিতি ভয়ানক। স্থানীয় মানুষ বিশেষ করে মহিলারা অত্যাচারিত। এই কারণ দেখিয়েই জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন রেখা শর্মা বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি করেছিলেন। মঙ্গলবার সন্দেশখালি নিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে রিপোর্ট জমা দিলেন তিনি। দাবি সেই রাষ্ট্রপতি শাসনেরই।
গত ফেব্রুয়ারি মাসেই সন্দেশখালি গেছিল জাতীয় মহিলা কমিশন। সেই সময় দাবি করা হয়েছিল, সন্দেশখালির যা পরিস্থিতি তাতে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। কমিশনের চেয়ারপার্সন রেখা শর্মা জানিয়েছিলেন, ধর্ষণের অভিযোগ তো আছেই একাধিক শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটেছে সেখানে। তাঁর দাবি ছিল, বহু ঘটনার তো উল্লেখই নেই কারণ পুলিশ কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। দু সপ্তাহের মধ্যেই সন্দেশখালি নিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে রিপোর্ট দিল জাতীয় মহিলা কমিশন। বাংলার জন্য চাওয়া হল রাষ্ট্রপতি শাসন।
National Commission for Women (NCW) Chairperson Rekha Sharma met President Droupadi Murmu today and presented a report on the Sandeshkhali incident, recommending President's Rule in West Bengal.
— ANI (@ANI) March 5, 2024
সন্দেশখালি গিয়েছিল জাতীয় তফসিলি কমিশনের প্রতিনিধি দলও। তারাও মহিলা কমিশনের মতো সন্দেশখালিকাণ্ডে রাষ্ট্রপতি শাসনের সুপারিশ করেছিল। তাঁদের সুপারিশও রিপোর্ট আকারে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে জমা দেওয়া হয়। যদিও সরকার হোক কিংবা পুলিশ, তাঁরা মহিলাদের তরফে কোনও অভিযোগের কথা জানায়নি। তবে জাতীয় মহিলা কমিশন সন্দেশখালি যে সময়ে এসেছিল সেই সময়ে গ্রেফতার হয়নি মূল অভিযুক্ত শেখ শাহাজাহান। বর্তমানে সে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।
শেখ শাহাজাহানকে গত বৃহস্পতিবার মিনাখাঁর বামনপুকুর থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁকে সিআইডির হেফাজতে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবারই সন্দেশখালি কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। এছাড়া বিকেল সাড়ে ৪টের মধ্যে শেখ শাহজাহানকে সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে শাহজাহানকে সিবিআই-র হাতে দেয়নি সিআইডি। প্রসঙ্গত, শাহজাহান কার হেফাজতে থাকবে সেই নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। ইডি গোড়া থেকে এই দাবিও জানিয়ে এসেছে যে, তাদের উপর হামলার ঘটনার তদন্ত যে রাজ্য পুলিশকে দিয়ে না করানো হয়। সিবিআই ও রাজ্য পুলিশকে নিয়ে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের ব্যাপারেও তাদের ভরসা নেই। কারণ, রাজ্য পুলিশ সহযোগিতার করবে না। তাই এই তদন্তভার শুধু সিবিআইকেই দেওয়া হোক। সেই নির্দেশই দেয় আদালত।
তবে হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য। শীর্ষ আদালত অবশ্য হাইকোর্টের নির্দেশের ওপরে কোনও স্থগিতাদেশ দেয়নি। বরং রেজিস্টার জেনারেলের কাছে মামলাটি নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। আইনজীবীদের মতে, দ্রুত শুনানি হচ্ছে না। অর্থাৎ প্রাথমিকভাবে শীর্ষ আদালতেও ধাক্কা খেয়েছে রাজ্য।