দ্য ওয়াল ব্যুরো : "আমি মনে করি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি ধর্মীয় ভেদাভেদ ও ইসলামভীতি থেকে মুক্ত।" সোমবার এক সর্বভারতীয় চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে একথা বললেন প্রবীণ অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ (Nasiruddin shah)। একইসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, চলচ্চিত্র নির্মাতাদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে যাতে তাঁরা সরকারের পক্ষে ফিল্ম তৈরি করেন।
চলতি মাসের শুরুতে নাসিরুদ্দিনের একটি মন্তব্য ভাইরাল হয়। তিনি বলেছিলেন, "তালিবান ফের ক্ষমতায় আসায় সারা বিশ্বের মানুষ উদ্বিগ্ন হয়েছেন। কিন্তু ভারতের মুসলিমদের একাংশ এই বর্বর শক্তির জয়ে উল্লাস করছেন। এই ব্যাপারটাও কম উদ্বেগজনক নয়।" অভিনেতা মনে করেন, 'হিন্দুস্তানি ইসলামের' সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তের মুসলিমদের ভাবনার পার্থক্য আছে। এদিনের সাক্ষাৎকারে অবশ্য তিনি বলেন, তাঁর বক্তব্যকে ভুল বোঝা হয়েছিল।
৭১ বছর বয়সী অভিনেতা বলেন, 'একশ্রেণির মুসলিম উল্লাস প্রকাশ করছেন' কথাটা বলা ঠিক হয়নি। তাঁর কথায়, "যাঁরা তালিবানের পক্ষ নিয়ে বিবৃতি দিচ্ছেন, আমি তাঁদের কথা বোঝাতে চেয়েছিলাম। তালিবানের অতীতের কার্যকলাপ ভাল নয়।" অভিনেতার বক্তব্য, তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা হওয়ার পরে একশ্রেণির দক্ষিণপন্থী শক্তি খুব খুশি হয়েছে। তারা তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছে। নাসিরুদ্দিনের কথায়, "আমি কারও অভিনন্দনের তোয়াক্কা করি না।"
অভিনেতাকে প্রশ্ন করা হয়, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেও কি ধর্ম নিয়ে বৈষম্য করা হয়? তিনি বলেন, "আমি জানি না মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ এখন ইন্ডাস্ট্রিতে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন কিনা। ইন্ডাস্ট্রিতে দেখা হয়, কার ফিল্ম কী পরিমাণে ব্যবসা করতে পারছে। তার ওপরে নির্ভর করে কে কত সম্মান পাবেন।" পরে তিনি বলেন, "ফিল্মের জগতে তিন খান এখনও শীর্ষস্থানে আছেন। আমি নিজে কখনও বৈষম্যের শিকার হইনি। আমাকে কেরিয়ারের শুরুতে অনেকে বলেছিল, তোমার নামটা পরিবর্তন কর। আমি কিন্তু তা করিনি।"
অভিনেতার মতে, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির বাইরে ধর্মীয় বৈষম্য আছে। তাঁর বক্তব্য, মুসলিম নেতা এবং ছাত্ররা সম্পূর্ণ নির্দোষ বক্তব্য পেশ করার জন্য শাস্তির মুখে পড়ছেন। এরপরে নাসিরুদ্দিন বলেন, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে ধর্মীয় গোঁড়ামি না থাকলেও কিছু পরিবর্তন এসেছে। তাঁর কথায়, "চলচ্চিত্র নির্মাতাদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে যাতে তাঁরা সরকারের পক্ষ নিয়ে ফিল্ম তৈরি করেন। এই ধরনের প্রচারমূলক ফিল্ম বানানোর জন্য তাঁদের অর্থও যোগানো হচ্ছে। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে, সরকারের হয়ে প্রচারমূলক ফিল্ম বানালে তাঁদের সব অপরাধ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।"
এরপরেই তিনি নাৎসি জার্মানির সঙ্গে ভারতের বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করেন। তাঁর কথায়, "নাৎসি আমলে জার্মানিতে সেরা চলচ্চিত্র নির্মাতাদের বলা হত, আপনারা এমন ফিল্ম বানান যাতে ফ্যাসিবাদী মতাদর্শের প্রচার হয়।" অভিনেতার মতে, এখনকার দিনে বিগ বাজেটের কয়েকটি ফিল্মে উগ্র জাতীয়তাবাদের প্রকাশ দেখা যাচ্ছে।