
শেষ আপডেট: 8 February 2024 21:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার সন্ধেয় গ্রেফতার হয়েছেন ভাঙড়ের প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূলের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা আরাবুল ইসলাম। খুন, তোলাবাজি, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, ভাঙচুর-সহ একাধিক অভিযোগে আরাবুলকে গ্রেফতার করেছে উত্তর কাশীপুর থানার পুলিশ। তাৎপর্যপূর্ণ, ওই থানা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে কলকাতা পুলিশের আওতায় এসেছে।
ভোট পরবর্তী হিংসা ও আইএসএফ কর্মীকে খুনের অভিযোগও আছে আরাবুলের বিরুদ্ধে। আরাবুলের গ্রেফতারির পরে আইএসএফ নেতা নওসাদ সিদ্দিকির মতামত জানতে চাওয়া হলে, তিনি বলেন, “ভাঙরে যত হিংসার ঘটনা ঘটেছে তার নেতৃত্বে ছিল আরাবুল। আইএসএফ কর্মীকে খুন করেছে সে। কিন্তু আরাবুলের চেয়েও সবচেয়ে বেশি অপরাধী যে সেই শওকত মোল্লাকে গ্রেফতার করা উচিত ছিল।”
সন্দেশখালিতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের উপর হামলার ঘটনার আঁচ এখনও রয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। ৩৪ দিন কেটে গেলেও, এখনও খোঁজ মেলেনি তৃণমূলের নেতা শেখ শাহজাহানের। সেই নিয়ে রাজনৈতিক তরজার মধ্যেই আরাবুলকে গ্রেফতার করল পুলিশ।
ভাঙড় দু'নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আরাবুল। নওসাদ বলছেন, “আমার সঙ্গে আরাবুলের ব্যক্তিগত কোনও সংঘাত নেই। গণতন্ত্রকে যারা হত্যা করে আমরা তাদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলি। আর আরাবুলের মতো লোকজন গণতন্ত্রের হত্যাকারী।” আইএসএফ নেতার কথায়, “আমাদের দলের এক কর্মীকে খুন করেছিল। আমরা আদালতে মামলা করেছিলাম। যদিও সিবিআই তদন্ত চাইলে কোর্ট তার অনুমতি দেয়নি। শুনেছি আদালতে সেই মামলা চলছিল। কোর্টকে কী জবাব দেবে তাই হয়ত গ্রেফতার করেছে।”
ভাঙড় দু'নম্বর ব্লকে মনোনয়নের দিন আইএসএফ কর্মী মহিউদ্দিন মোল্লার খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছিল আরাবুলের বিরুদ্ধে। তাছাড়া তোলাবাজি, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট সহ একাধিক অভিযোগ ছিল। ভাঙড়ের একাধিক উপদ্রুত এলাকায় অশান্তি ও হানাহানির তদন্ত করছিল লালবাজার। তারপরে এদিন সন্ধেয় গ্রেফতার করা হয় আরাবুলকে।
নওসাদ বলেছেন, “আরাবুলকে গ্রেফতার করা হলেও আসল অভিযুক্ত কিন্তু শওকত মোল্লা। ভাঙড়ে যত হিংসার ঘটনা ঘটেছে তার নেতৃত্ব দিয়েছে শওকত। আমরা চাই শওকতকে গ্রেফতার করা হোক। আরাবুলের এখন ক্ষমতা কমেছে, তাই দল ছেঁটে ফেলছে। আরাবুল তো দুধেল গাই ছিল, এখন দুধ দিতে পারছে না তাই গ্রেফতার করেছে। শওকত মোল্লাকে গ্রেফতার না করলে আমরা উচ্চ আদালতে যাব।”