
নওসাদ সিদ্দিকী এবং আরাবুল ইসলাম
শেষ আপডেট: 3 July 2024 16:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খুন সহ সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের একাধিক অভিযোগে ভাঙড়ের প্রাক্তন বিধায়ক আরাবুল ইসলাম গ্রেফতার হয়েছিলেন। তবে লোকসভা ভোট মিটে যাওয়ার পরই তাঁর জেলমুক্তি ঘটেছে। মঙ্গলবার আরাবুলের জামিন মঞ্জুর করে কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন তিনি। আরাবুল ছাড়া পেতেই ভাঙড়ের বর্তমান বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকী শান্তির বার্তা দিলেন। একই সঙ্গে, শওকত মোল্লার গ্রেফতারি দাবি করেছেন তিনি।
২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময়ে ভাঙড়ে লাগাতার হিংসার ঘটনা ঘটেছিল। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনে খুন হন মইনুদ্দিন মোল্লা নামে এক আইএসএফ কর্মী। সেই ঘটনায় তৃণমূলের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা আরাবুল ইসলামের নাম জড়ায়। পাশাপাশি এলাকায় হিংসার পিছনেও তার হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছিল আইএসএফ। সেই আরাবুল লোকসভা ভোটের আগে গ্রেফতার হয়েছিলেন। এখন ভোট মিটতেই ছাড়া পেলেন।
আরাবুল ফিরে আসার পরে কি আবার অশান্তি হতে পারে ভাঙড়ে? এই প্রশ্নের উত্তরে নওসাদের বক্তব্য, ''আমি কোনও সময় চাই না ভাঙড়ে অশান্তি হোক। বিধায়ক হিসেবে সবসময়ে চেয়েছি সেখানে শান্তি বজায় থাকুক। তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের সময়ও তাই, আইএসএফ কর্মীদের ওপর অত্যাচারের সময়ও তাই। আমি সকলকে শান্তি বজায় রাখতেই বলি। তাই আজও সেই এক কথাই বলব।''
আরাবুল গ্রেফতার হওয়ার পর বিজেপি সহ একাধিক বিরোধী শিবিরের দাবি ছিল, পুরোটাই নাটক। ভোটের জন্য আগেভাগে তাঁকে গ্রেফতার করিয়েছে তৃণমূল। বুধবার আরাবুল জেল থেকে ছাড়া পেতে কার্যত সেই কথাই শোনা যায় ভাঙড়ের বিধায়কের মুখে। শুধু তাই নয়, তিনি শওকত মোল্লার গ্রেফতারিও দাবি করেন। নওসাদ বলেন, ''যখন যাকে ইচ্ছা হয়েছে জেলে ভরে দিচ্ছে, আবার ইচ্ছা হলে বের করিয়েছে। তবে আরাবুল ইসলাম যে অনৈতিক কাজ করেছেন তার হোতা শওকত মোল্লা। যে মামলায় আরাবুল জেল খাটলেন, সেই একই মামলায় শওকতকে গ্রেফতার করতে হবে এই দাবি করছি।''
নওসাদের খোঁচা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে শওকতকে সার্টিফিকেট দিয়ে বলেছিলেন, 'তুই বোম বাঁধিস।' তাঁকেই ভাঙড়ের পর্যবেক্ষক করা হয়েছে। তাহলে সেখানে কী ভাবে শান্তি ফিরতে পারে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন নওসাদ সিদ্দিকী।