দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় নৌসেনার সাব লেফটেন্যান্ট রমেশচন্দ কাতোচের পরে ব্যান্ডমাস্টার হিসেবে যদি কারও নাম উঠে আসে তিনি হলেন মাস্টার চিফ ভিনসেন্ট জনসন। প্রতি বছরই প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে নৌসেনার ব্যান্ডকে নেতৃত্ব দিতে দেখা যায় ভিনসেন্টকে। টানটান শরীর, বলিষ্ঠ কাঁধ, প্যারাডের তালে তালে, ব্যান্ডের সুরে রাজপথে এক অন্যমাত্রা যোগ করেন তিনি। টিভির পর্দায় ভিনসেন্টকে দেখেছেন সকলেই, কিন্তু তাঁর মেধা ও দক্ষতার পরিচয় আড়ালেই থেকে গেছে। ২৬ জানুয়ারির আগে নৌসেনা ব্যান্ডের এই ব্যান্ডমাস্টারকে সম্মান জানাতে চলেছে ভারতীয় নৌবাহিনী।
‘ড্রাম মেজর।’ নৌসেনা ব্যান্ডে এই নামেই ডাকা হয় ৪৮ বছরের মাস্টার চিফকে। টানা ১৬ বছর ধরে প্রজাতন্ত্র দিবসে নৌসেনার ব্যান্ডকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভিনসেন্ট। প্রাক্তন নৌসেনা প্রধান অ্যাডমিরাল অরুণ প্রকাশ বলেছেন, “ব্যতিক্রমী প্রতিভা রয়েছে ভিনসেন্ট জনসনের। এতগুলো বছর একটানা নেভি ব্যান্ডকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, পারফরম্যান্সে কোনও খামতি নেই। বরং দিনে দিনে নৌবাহিনীর অন্দরেই তাঁর মেধার কদর আরও বাড়ছে।”
১৯৯০ সালে প্রথম প্যারেড, গুরু ছিলেন মেজর রমেশচন্দ কাতোচ
[caption id="attachment_175914" align="aligncenter" width="600"]
সাব লেফটেন্যান্ট রমেশচন্দ কাতোচ[/caption]
১৯৮৯ সালে ভারতীয় নৌসেনা যোগ দেন ভিনসেন্ট জনসন। ১৯৯০ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসে প্রথম রাজপথে প্যারাডে পা মেলাতে দেখা যায় তাঁকে। বলেছেন, “মেজর রমেশচন্দ কাতোচ আমার গুরু ছিলেন। তাঁর কাছে নৌসেনার ব্যান্ডে হাতেখড়ি। তখন অবশ্য ফ্রন্টে থাকতাম না, মেজরকে অনুসরণ করে বাকিদের সঙ্গেই পা মেলাতাম।” ভিনসেন্টের খুব তাড়াতাড়ি সবকিছু রপ্ত করে নেওয়ার দক্ষতা ও নেতৃত্ব নেওয়ার ক্ষমতা মুগ্ধ করেছিল নৌসেনার মেজরকে। ভিনসেন্ট বলেছেন, “কয়েক বছরের মধ্যেই উনি আমাকে ড্রাম মেজর হতে বলেন। অন্তত ৮১ জনের ব্যান্ডকে কীভাবে পরিচালনা করতে হয় তার সবটাই শিখেছিলাম নৌসেনার সাব-লেফটেন্যান্ট রমেশচন্দ কাতোচের কাছ থেকে।“
রাত ৩টেয় উঠে অভ্যাস, প্রশিক্ষণ দিয়েছেন ৮০ জনকে
মাস্টার চিফের কথায়, কয়েকবছর আগেও প্রজাতন্ত্র দিবসের দিনে রাজপথে ১৬.৫ কিলোমিটার রাস্তা প্যারেড করতে হত। এখন ১২ কিলোমিটার প্যারেড করে ঘুরতে হয়। গোটা রাস্তায় পায়ের স্টেপ, হাত-কাঁধের অবস্থান, শরীরের মুভমেন্ট এবং হাতের বাধ্যযন্ত্রকে সঠিকভাবে রাখতে হয়। তার জন্য দীর্ঘ প্রশিক্ষণ ও অধ্যবসায়ের দরকার। ২০১৬ সাল থেকে প্যারাডের সময়তেও কাটতি হয়েছে। ১১৫ মিনিটের জায়গায় এখন সময় ৯০ মিনিট। ড্রাম মেজরের কথায়, “আগের বছর নেভি ব্যান্ডে ৮১ জনের টিম ছিল, এবছর ৮০ জনের দল। ব্যান্ডের সদস্যদের মুখ বদলে যায় প্রতি বছরই। খুব কমজন আছেন যাঁরা ধারাবাহিক ভাবে পারফর্ম করেন। সেক্ষেত্রে ফি বছরই নতুনদের ধৈর্য্য ধরে প্রশিক্ষণ দিতে হয়।”
https://www.youtube.com/watch?v=Uev39Ke70RA
২ জানুয়ারি থেকেই রাজপথে নেমে ট্রেনিং শুরু হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ভিনসেন্ট। তারজন্য শীতের রাতে ৩টের সময় উঠে কসরত করতে হয়। “সবটাই টিমওয়ার্ক। অনেক ধৈর্য্য, অধ্যবশায়, পরিশ্রম লাগে। প্রতি বছরের মতো এবছরও নতুন কিছু পারফর্ম করার চেষ্টা করব আমরা।”
সিডনি থেকে মরিশাস—ভারতের ড্রাম মেজরের প্রশংসা সর্বত্র
দেশের বাইরে বহুবার ব্যান্ডের পারফর্ম করেছেন ভিনসেন্ট জনসন। ২০১৩ সালে সিডনিতে ইন্টারন্যাশনাল ফ্লিট রিভিউতে তাঁর মিউজিকের প্রশংসা করেছিলেন সকলে। ২০১৫ সালে মরিশাস ন্যাশনাল ডে-র সেলিব্রেশনেও ডাক পড়েছিল ড্রাম মেজর ভিনসেন্টের। বলেছেন, “২০১৭ সালে স্কটল্যান্ডে যখন পারফর্ম করি প্রবাসীরা তো বটেই, বিদেশি অতিথিরাও ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। বিদেশের মাটিতে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছি, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।” ২০১৮ সালে রাশিয়ান রয়্যাল ফেডারেশন ন্যাভাল ডে-তেও পারফর্ম করেছিলেন ভিনসেন্ট জনসন।