দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত মহাসাগরে উত্তরোত্তর গতিবিধি বাড়াচ্ছে চিন, আগামীকাল নৌসেনা দিবসের আগে এমন আশঙ্কার কথাই জানালেন নৌসেনা অ্যাডমিরাল করমবীর সিং। সম্প্রতি ভারতের অনুমতি না নিয়েই ভারত মহাসাগরের বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকায় (এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন) ঢুকে পড়েছিল ‘শি ইয়ান ১’ নামে চিনের একটি জাহাজ। ভারতীয় নৌবাহিনী পিছু ধাওয়া করে এলাকাছাড়া করে সেটিকে।
জলদস্যু দমন বা ব্যবসা-বাণিজ্যের নামে কি ভারত মহাসাগর অঞ্চলে কৌশলে প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে চিন? সম্প্রতি ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে যে তথ্যপ্রমাণ এসেছে তাতে সেই আশঙ্কাই জোরালো হচ্ছে। নৌসেনা অ্যাডমিরাল করমবীর বলেছেন, ‘‘২০০৮ সাল থেকে ভারত মহাসাগরে নিজেদের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে চিন। সীমানা লঙ্ঘন করে যখন তখন ঢুকে পড়ছে যুদ্ধজাহাজও। আমরা নজর রাখছি।’’ তিনি জানান, ‘শি ইয়ান ১’ নামে জাহাজটি সীমা লঙ্ঘন করেন ঢুকে পড়লে সেটিকে তাড়িয়ে দেয় ভারতের নৌবাহিনী।
ভারত মহাসাগরে ভারতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকা বরাবরই নজরে রয়েছে বেজিংয়ের। এর আগে বহুবার ওই বিশেষ এলাকা ও আঞ্চলিক জলসীমার কাছাকাছি ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে চিনের একাধিক রণতরীকে। এইসব রণতরীগুলির সঙ্গে বেশিরভাগ সময়েই থাকে ল্যান্ডিং প্ল্যাটফর্ম ডক। কৌশলে নজর এড়িয়ে হানা দেয় চিনা সাবমেরিনও।

নৌসেনা অ্যাডমিরালের কথায়, “এই মুহূর্তে ভারত মহাসাগরের বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকার কাছাকাছি ঘোরাঘুরি করছে ৭-৮টি চিনা জাহাজ। তাদের নানা উদ্দেশ্য থাকতে পারে যেমন, সমুদ্র সংক্রান্ত গবেষণার কাজ হতে পারে অথবা সামুদ্রিক সম্পদ উত্তোলন। জলদস্যুদের তাড়াতেও অনেক সময় সীমা লঙ্ঘন করে ঢুকে পড়ে চিনা জাহাজ। ”
কূটনৈতিক মহলের একটি অংশের অবশ্য ব্যাখ্যা, ভূ-রাজনৈতিক ভাবে ও ব্যবসায়িক দিক থেকে ভারত মহাসাগরের ওই এলাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই ২০০৮ সাল থেকেই সেখানে প্রভাব বিস্তার করার প্রচেষ্টা জারি রেখেছে বেজিং।
গোয়েন্দাদের রিপোর্ট বলছে, ২০১৩ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত ভারত মহাসাগরে আটটিরও বেশি ডুবোজাহাজ পাঠিয়েছে চিন। যার মধ্যে পরমাণু শক্তিচালিত আক্রমণকারী ডুবোজাহাজও ছিল। কলম্বো এবং করাচি হয়ে ভারতীয় জলসীমার কাছে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গিয়েছিল ডুবোজাহাজগুলিকে। ভারতের পি-৮১ অ্যান্টি সাবমেরিন নজরদার বিমানের মাধ্যমে ধরা পড়েছিল সেগুলি। এমনও হয়েছে এক একটি ডুবোজাহাজ প্রায় একমাস করে কাটিয়ে গিয়েছে। গোয়েন্দা সূত্র আরও বলছে, প্রতিবার রণতরী বা সামরিক ডুবোজাহাজ পাঠায় না চিন। বরং নজর এড়াতে পর্যায়ক্রমে একবার সাধারণ জাহাজ আর একবার সামরিক ডুবোজাহাজ পাঠায় তারা। ২০১৭ সালে ভারত মহাসাগরে চিনা নৌবাহিনীর ১২টি বহর দেখা গিয়েছিল, যার মধ্যে ছিল তৃতীয় শ্রেণির ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী লুয়াং জাহাজ, ডুবোজাহাজে সরঞ্জাম সরবরহকারী জাহাজ চোংমিংদও।
নৌসেনা অ্যাডমিরাল করমবীর বলেছেন, ভারত মহাসাগরে নজরদারি আরও বাড়ানোর জন্য তিনটি মিগ-২৯কে বিমান নিয়োগ করা হবে। ২০২২ সাল থেকে জোরকদমে নজরদারির কাজ শুরু করবে একটি মিগ-২৯কে।