
শেষ আপডেট: 18 November 2022 13:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রের এলগার পরিষদ-মাওবাদী লিঙ্ক মামলায় অভিযুক্ত গৌতম নভলাখাকে সুপ্রিম কোর্ট গৃহবন্দি থাকার অনুমতি দিয়েছিল দিন দশেক আগে। সত্তরোর্ধ্ব নভলাখার শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে তাঁকে এই সুযোগ দেয় সর্বোচ্চ আদালত। কিন্তু নানা জটিলতা এবং জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-র আপত্তিতে রায় কার্যকর করা যাচ্ছিল না। আজ সুপ্রিম কোর্ট এনআইএ-র আপত্তি উড়িয়ে নভলাখাকে অবিলম্বে জেলের বাইরে গৃহবন্দি রাখার ব্যবস্থা করতে বলেছে। গৃহবন্দি থাকাকালে তিনি তাঁর ইচ্ছানুযায়ী কমিউনিস্ট পার্টির অফিসে থাকতে পারবেন, বলেছে আদালত (Navlakha can stay in the party office during house arrest)। বিচারপতি কেএম জোসেফের বেঞ্চ এনআইএ-র আপত্তি উড়িয়ে প্রশ্ন তোলে, কমিউনিস্ট পার্টি একটি স্বীকৃত রাজনৈতিক দল। সেখানে কেউ থাকলে আপত্তির কী আছে!
গতকাল নভলাখার আইনজীবী শীর্ষ আদালতে জানান, এখনও তাঁকে মুক্তির আদেশ কার্যকর করা হয়নি। মুম্বইয়ের জেলেই বন্দি আছেন এই প্রবীণ কমিউনিস্ট নেতা।
প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের (DY Chandrachud) প্রশ্নের জবাবে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ জানায়, নভলাখার গৃহবন্দি থাকতে যে ঠিকানা দিয়েছেন সেটি কমিউনিস্ট পার্টির একটি অফিস। এনআইএ প্রশ্ন তুলেছে, পার্টি অফিসে কি গৃহবন্দি পর্ব কাটাতে পারে কোনও বন্দি?
প্রধান বিচারপতি অভিযুক্ত নভলাখার আইনজীবীর নালিশ এবং এনআইএ-র বক্তব্যের প্রেক্ষিতে
একটি নতুন মামলা চালু করার নির্দেশ দেন। প্রসঙ্গত ওই মামলায় মূল অভিযোগ মাওবাদী রাজনীতিতে বিশ্বাসী নভলাখা এবং তাঁর সতীর্থরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন।
প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বে একটি বেঞ্চের কাছে নভলাখার পক্ষে উপস্থিত একজন সিনিয়র আইনজীবী উল্লেখ করেন, সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশও কার্যকর হচ্ছে না। অন্যদিকে, এনআইএ-র পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, অভিযুক্ত তাঁর বাড়ির ঠিকানা দেওয়ার পরিবর্তে কমিউনিস্ট পার্টির অফিসের ঠিকানা দিয়েছেন। কোনও আসামিকে কি পার্টি অফিসে থাকতে দেওয়া চলে?
শীর্ষ আদালত বলেছে যে তদন্তকারী সংস্থা এবং অভিযুক্তদের উভয় আবেদনই বিচারপতি কেএম জোসেফের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের সামনে একসঙ্গে শুনানি করা হবে।আজ সেই বেঞ্চ তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।
শীর্ষ আদালত ১০ নভেম্বর প্রবীণ নভলাখাকে স্বাস্থ্যের অবনতির কারণে গৃহবন্দি রাখার অনুমতি দিয়েছিল। তিনি এখন মুম্বইয়ের শহরতলীর একটি জেলে বন্দি।
অভিযুক্ত নভলাখাকে বাড়িতে বন্দি থাকার অনুমতি দিতে গিয়ে আদালত একগুচ্ছ শর্ত আরোপ করে।
বলা হয়, পুলিশ প্রদত্ত সেলফোন ব্যতীত নভলাখা ইন্টারনেট অ্যাক্সেস করতে বা মোবাইল ফোন বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক গ্যাজেট ব্যবহার করতে পারবেন না। প্রতিদিন পুলিশের মোবাইল থেকে তাদের সামনে মাত্র ১০ মিনিট কথা বলতে পারবেন। সেটি অবশ্যই সাধারণ ফোন হতে হবে এবং ফোনের বার্তা বা কল লগ মুছে ফেলা যাবে না।
শর্ত হিসেবে আরও বলা হয়, নভলাখা কেবল টিভি দেখতে এবং খবরের কাগজ ও বই পড়তে পারেন। পুলিশের উপস্থিতিতে প্রতিদিন বাড়ির বাইরে হাঁটাচলা করার অধিকার রয়েছে। তবে গৃহবন্দি থাকাকালীন সময়ে মুম্বই শহর ছাড়তে পারবেন না তিনি। শুধুমাত্র তাঁর বোন এবং মেয়ে সপ্তাহে একবার, তিন ঘন্টার জন্য তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারেন।
তাঁর বাড়ির চারপাশে সিসিটিভি র ক্যামেরা বসাতে হবে।
আদালত আরও শর্ত দেয়, নভলাখাকে নজরদারির খরচ বাবদ দু লাখ ৪০ হাজার টাকা জমা করতে হবে প্রশাসনের কাছে, যা তিনি মুক্তি পেলে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
নাম না করে চিন, পাকিস্তানকে নিশানা মোদীর, ‘সন্ত্রাসবাদীদের সমর্থন কিছু দেশের বিদেশ নীতি’