দ্য ওয়াল ব্যুরো : পাঞ্জাবে ভোটের আগে কংগ্রেসে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থামাতে উদ্যোগ নিয়েছিলেন খোদ প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধী। তাঁর সঙ্গে সহযোগিতা করেন অপর কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী। পাঞ্জাবে দীর্ঘদিন ধরেই মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং-এর সঙ্গে বিরোধ চলছে প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা কংগ্রেস নেতা নভজ্যোৎ সিং সিধুর। সম্প্রতি প্রিয়ঙ্কা তাঁর সঙ্গে বৈঠকে বসেন। কিন্তু তার পরেও সিধু যে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সমালোচনা থামাবেন না, তা বোঝা গেল শুক্রবার। এদিন পরপর ন’টি টুইট করে তিনি পাঞ্জাবে পাওয়ার কাটের জন্য অমরিন্দর সিং-কে দায়ী করেছেন।
সিধু লিখেছেন, ‘পাঞ্জাবে পাওয়ার কাটের দরকার নেই। অফিসের সময় নিয়ন্ত্রণ বা এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারে কড়াকড়ি করারও দরকার নেই। আমরা যদি যথাযথ পদক্ষেপ নিই, তাহলেই যথেষ্ট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।’ পাঞ্জাবে বিদ্যুৎ মন্ত্রকের দায়িত্বে আছেন মুখ্যমন্ত্রী। ২০১৯ সালে ওই মন্ত্রকটি সিধুকে দেওয়ার কথা হয়েছিল। কিন্তু সিধু ভেবেছিলেন, তাঁকে গুরুত্বহীন মন্ত্রক দেওয়া হচ্ছে। তাই তিনি ওই মন্ত্রক নেননি।
https://twitter.com/sherryontopp/status/1410841045974224897
এই গ্রীষ্মে পাঞ্জাবে বিদ্যুতের চাহিদা উঠেছে তুঙ্গে। সেইমতো বিদ্যুতের যোগান দেওয়া যাচ্ছে না। মুখ্যমন্ত্রী সামগ্রিকভাবে রাজ্যে অফিসের সময় কমিয়ে দিয়েছেন। কয়েকটি শিল্পে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
একটি টুইটে সিধু ভুতপূর্ব প্রকাশ সিং বাদল সরকারের সমালোচনা করেছেন। একইসঙ্গে সমালোচনা করেছেন আম আদমি পার্টির। কারণ তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, আগামী বছর পাঞ্জাবে বিধানসভা ভোটে জিতলে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিনামূল্যে দেবে।
সিধুর মতে, বাদল সরকার বেসরকারি সংস্থাগুলি থেকে বিদ্যুৎ কেনার যে চুক্তি করেছিল, তা অমরিন্দর সিং-এর খতিয়ে দেখা উচিত। তাঁর মতে, পাঞ্জাব বিদ্যুতের জন্য তিনটি বেসরকারি সংস্থার ওপরে বড় বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
কিছুদিন আগে অকালি দলের প্রধান সুখবীর সিং বাদলের সঙ্গেও তাঁর চাপান-উতোর হয়। বাদল বলেছিলেন, "সিধু একটি লক্ষ্যচ্যুত মিসাইল"। সিধু সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা বলেন, "আমার লক্ষ্য ঠিকই আছে। আমি আপনাকে ধ্বংস করব।"
বাদল বলেন, "নভজ্যোৎ সিং সিধু একটি মিসগাইডেড মিসাইল। তাঁর ওপরে কারও নিয়ন্ত্রণ নেই। তিনি নিজেও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না।" পরে তিনি বলেন, "পাঞ্জাবে এখন নাটুকে নেতাদের প্রয়োজন নেই। বরং এমন নেতা প্রয়োজন যিনি রাজ্যের উন্নয়ন নিয়ে সিরিয়াসলি ভাবতে পারবেন।"
সিধু তখন বাদলের উদ্দেশে বলেন, "আমি মোটেই লক্ষ্যহীন ক্ষেপণাস্ত্র নই। আমার লক্ষ্য ঠিকই আছে। আমি আপনার দুর্নীতি ধ্বংস করতে চাই।"