মহারাষ্ট্র গোয়া-মণিপুর নয়, কী করে শিক্ষা দিতে হয় জানি: বিজেপিকে কড়া চ্যালেঞ্জ পাওয়ারের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ যেন অন্য পাওয়ার!
গত দশ বছরের চেনা ছবিটা নয়। বরং আশির দশকের সেই মারাঠা স্ট্রং ম্যান—শরদ গোবিন্দরাও পাওয়ার। সেই তেজ, সেই মেজাজ!
সোমবার সন্ধ্যায় যে মানুষটা প্রত্যয়ের সঙ্গে বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বললেন, “মহারাষ্ট্র গোয়া-মণ
শেষ আপডেট: 25 November 2019 15:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ যেন অন্য পাওয়ার!
গত দশ বছরের চেনা ছবিটা নয়। বরং আশির দশকের সেই মারাঠা স্ট্রং ম্যান—শরদ গোবিন্দরাও পাওয়ার। সেই তেজ, সেই মেজাজ!
সোমবার সন্ধ্যায় যে মানুষটা প্রত্যয়ের সঙ্গে বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বললেন, “মহারাষ্ট্র গোয়া-মণিপুর নয়। আমরা জানি কী করে শিক্ষা দিতে হয়!”
মহারাষ্ট্রে আস্থা ভোট কবে হবে তা এখনও অনিশ্চিত। মধ্যরাতে রাজনৈতিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে শনিবার মারাঠা মুলুকে যে সরকার গঠন করেছিলেন দেবেন্দ্র ফড়নবিশ-অজিত পাওয়াররা, তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সোমবার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছে শিবসেনা, কংগ্রেস ও এনসিপি। কাল মঙ্গলবার সকালে সেই মামলার রায় ঘোষণা করার কথা সর্বোচ্চ আদালতের। তার প্রাক সন্ধ্যায় পোড় খাওয়া শরদ পাওয়ার মুম্বইয়ের হোটেলেই শক্তি প্রদর্শন করে দিলেন।
গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলের বলরুমে তিন দলের ১৬২ জন বিধায়ক শুধু উপস্থিত ছিলেন তা নয়, তাঁদের শপথ বাক্যও পাঠ করানো হল—“আমরা দলের প্রতি সত্যনিষ্ঠ থাকব। কোনওরকম লোভের ফাঁদে পা দেব না। এমন কিছু করব না যাতে বিজেপির ফায়দা হয়ে যায়।”
গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলের এই ছবি ও শপথ বাক্য পাঠের মধ্যে অবশ্যই নাটকীয়তা রয়েছে। কিন্তু রাজনীতিও রয়েছে ভরপুর। শরদ গোবিন্দরাও পাওয়ার আসলে শক্তি প্রদর্শন করে চাপ বাড়িয়ে রাখলেন সুপ্রিম কোর্টের উপর। মহারাষ্ট্র বিধানসভায় মোট ২৮৮ টি আসন রয়েছে। ১৪৫ জন বিধায়কের সমর্থন থাকলেই সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় থাকে। সে জায়গায় বিরোধী শিবিরে ১৬২ জন বিধায়ক থাকার অর্থই হল ফড়নবিশ-অজিত পাওয়ার সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই।
এদিন হায়াতের বলরুমে পাওয়ার তাঁর সংক্ষিপ্ত কিন্তু বলিষ্ঠ বক্তৃতায় বলেন, “সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে আর কোনও সমস্যা হবে না। দল থেকে সাসপেন্ড হওয়া একজন (পড়ুন অজিত পাওয়ার) কোনও বিধায়ককে কোনও নির্দেশ দিতে পারেন না। সেই এক্তিয়ারই তাঁর নেই।” এ কথা বলে আরও যেন ঝলসে ওঠেন শরদ পাওয়ার। বলেন, “বিধানসভায় আস্থা ভোটের দিন ১৬২ জনের বেশি বিধায়ক আমাদের পক্ষে থাকবে। আরও সমর্থন জোটাবো। এটা গোয়া-মণিপুর নয়, কীভাবে শিক্ষা দিতে হয় আমরা জানি”।
এখানেই থামেননি শরদ পাওয়ার। বিজেপির নাম মুখে না এনেও বলেন, যাঁরা কেন্দ্রে রয়েছেন তাঁরা ভাবছেন এমনি করেই সব দখল করে নেবেন। কর্নাটকেও ওঁরা এভাবেই ক্ষমতা দখল করেছে। কিন্তু আর নয়।
পাওয়ারের আগে এদিন উগ্র বক্তৃতা দেন উদ্ধব ঠাকরেও। তিনি বলেন, কেউ যদি শিবসেনাকে এখনও না চিনে থাকে, তাহলে এবার চিনে নিক। সীমা পার করলে তার হাল কী করতে হয় তা দেখিয়ে দেবেন শিবসৈনিকরা।