
শেষ আপডেট: 2 December 2020 08:12
সময়টা ১৯৮৪। ভোপালের ইউনিয়ন কার্বাইড ইন্ডিয়া লিমিটেডের কারখানা থেকে হঠাৎ একটি গ্যাস লিক করে ৪০টন মিথাইল আইসোসায়ানেট গ্যাস নির্গত হয়। বিষাক্ত এই গ্যাস বাতাসের চেয়ে ভারী। মাটি ঘেঁসে এই গ্যাস কারখানা থেকে বেরিয়ে লোকালয়ের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। মাঝরাতে ঘুমের মধ্যেই মারা যান কিন্তু মানুষ। যাঁরা পালানোর চেষ্টা করেছিলেন, তাঁদের মধ্যেও প্রাণ হারান অনেকে। রাস্তাঘাটের পাশেই মরে পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল কুকুর বিড়ালদের।
সেখানেই শেষ নয়। তারপরেও ফুসফুস, যকৃতের সমস্যায় আক্রান্ত হন বহু মানুষ। ধীরে ধীরে পঙ্গু হয়ে যান অনেকে। ছোট ছোট শিশুরা পরবর্তীতে ঠিক মতো বাড়তে পারেনি, হাঁটাচলা করতে পারেনি। অনেকেই ক্যান্সারেও আক্রান্ত হয়েছেন। সব মিলিয়ে এখনও সেই দুর্ঘটনার পর ভুগছেন বহু মানুষ। সেই 'কালো রাত' এখনও ভুলতে পারেননি কেউ।
বহু পরিবেশবিদরা মনে করেন ওই বিষাক্ত গ্যাস ভূগর্ভস্থ জল, মাটি সবেতেই মিশে গিয়েছিল। যদিও অনেকেই আবার মানতে নারাজ। কিন্তু পরিবেশবিদরা বলেন ৩৬ বছর কেটে গেলেও এখনও সুস্থ নয় ভোপালের পরিবেশ।
এমন দুর্দিনের পরেই মানুষকে আরও সচেতন করতে, কারখানাগুলোকে সচেতন করতে, কতরকমভাবে পরিবেশে এবং জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে দূষণ কমানো যায় তারই চেষ্টা করছেন সকলে। নতুন ফ্ল্যাট, শপিং মল তোলার পর যতটা ক্ষতি পরিবেশের হয়, সেটা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সরকার ও পরিবেশবিদরা প্রত্যেকেই চেষ্টা করছেন।
দূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে বহু আইন চালু করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন হল, এরপরেও মানুষ সচেতন হচ্ছেন কি? সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে এখনও প্লাস্টিকের ব্যবহার কমেনি। এখনও যত্রতত্র গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। কাটার পর নতুন করে গাছ লাগালেও সেটা উপড়ে ফেলছেন অনেক। এখনও অসচেতনতার কারণে কারখানা থেকে দুর্ঘটনা ঘটছে। এত আইন করার পরও কেন মানুষ নিজে থেকে সচেতন হচ্ছেন না?
যাতে ভারতে আর কোনও শিল্প বিপর্যয় না ঘটে, প্রতিটা আইন যেন সকলের মনে থাকে, এমনটাই চাইছে প্রশাসন। ২০২০ সালের জাতীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ দিবসের থিম এটাই - প্রতিটা মানুষকে নিজে থেকে সচেতন হতে হবে। তাহলেই দূষণ রোধ করা সম্ভব। পরিবেশ সুস্থ থাকলে, মানুষ, জীবজন্তু প্রত্যেকেই সুস্থ থাকবে। তাই নিজেদের স্বার্থেই পরিবেশকে সুস্থ রাখার চেষ্টা করুন। যে যে কারণে দূষণ বাড়ছে সেদিকে নজর দিন, রোধ করুন, তাহলেই গোটা পৃথিবী সুস্থ সুন্দর থাকবে।