দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে রবিবারের হামলার দু’দিন পর মঙ্গলবার থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন আক্রান্ত অধ্যাপিকা সুচরিতা সেন। এফআইআরে তিনি অভিযোগ করেছেন, মারাত্মক সব অস্ত্র, লাঠি ও রড নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢুকেছিল বহিরাগতরা।
এফআইআরে তিনি জানিয়েছেন, প্রথমে একটি পাথরের আঘাতে তিনি আহত হন, পাথরটি এসে তাঁর কাঁধে লাগে এবং তারপরে সম্ভবত তার চেয়েও একটি বড় পাথর এসে লাগে তাঁর হাতে। তখনই তিনি মাটিতে পড়ে যান, রক্ত বেরতে শুরু করে।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন ছাত্রনেত্রী ঐশী ঘোষও। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে হামলার ঘণ্টাখানেক আগেই অচেনা লোকের জমায়েত নিয়ে তিনি পুলিশকে জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন ঐশী। তাঁর অভিযোগ, তার পরেও এব্যাপারে কোনও হস্তক্ষেপই করেনি পুলিশ। উপাচার্য এম জগদেশ কুমারকেও এই ঘটনার জন্য দায়ী করেছেন ঐশী। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে হামলায় ৩৪ জন আহত হওয়ায় উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেছেন ঐশী।
একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঐশী দাবি করেন, “রবিবার বেলা আড়াইটে নাগাদ পুলিশকে ফোন করে বলি যে আমরা নিরাপত্তার অভাব বোধ করছি কারণ বহু অচেনা-অজানা লোক ক্যাম্পাসে ভিড় করছে। কিন্তু কোনও হস্তক্ষেপই করা হয়নি।”
রবিবার সন্ধ্যায় জওহরলাল নেহরু ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশেনর (জেএনইউটিএ) সদস্যরা শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রতিবাদের জন্য জড়ো হচ্ছিলেন, তখনই হামলা শুরু হয়। ক্যাম্পাসে তাণ্ডব করতে শুরু করে মুখঢাকা লোকজন। ঐশী বলেন, “পড়ুয়াদের বেতন বৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত ওই শান্তিপূর্ণ জমায়েতে আমরা যোগ দিচ্ছিলাম, সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করছিলাম। কয়েক মিনিটের মধ্যেই মুখঢাকা গুন্ডারা সবরমতী হস্টেলের বাইরে আমাদের টার্গেট করে। লোহার রড দিয়ে আমার উপরে হামলা করা হয়েছিল।”
এই ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঐশীর একটি রক্তাক্ত মুখের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। সেই ভিডিওয় তাঁকে বলতে শোনা গেছে “মুখঢাকা গুন্ডারা আমার উপরে ভয়ানক ভাবে হামলা করেছে। রক্ত বেরোচ্ছে। আমাকে নির্মম ভাবে মারধর করা হয়েছে।”

দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে রবিবারের হামলায় ৩৪ জন ছাত্র ও শিক্ষক আহত হয়েছেন। এই ঘটনার পর দেশজুড়ে প্রতিবাদ আন্দোলনে সামিল হয়েছেন ছাত্রছাত্রীরা। রবিবারের ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছে অখিল ভারত বিদ্যার্থী পরিষদের দিকে, যদিও তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইতিমধ্যেই ঘটনার রিপোর্ট জমা পড়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে।