
শেষ আপডেট: 26 June 2019 08:20
খাল কেটে জল আনছেন দাইতারি।[/caption]
দাইতারি জানিয়েছেন, তাঁর পদ্মশ্রী সম্মান ফেরত দিতে চান ৷ কারণ তীব্র অভাব তাঁর সব কিছু শেষ করে দিয়েছে। তাঁর পরিবারের সকলেই প্রায় অভুক্ত দিন কাটাচ্ছেন। দু'বেলা দু'মুঠো ভাত না পেলে তাঁর কাছে বাঁচার কোনও মানেই নেই। তিনি জানান, সব শেষ হয়ে গিয়েছে ৷
দাইতারি নায়েকের বয়স তখন ৭০ ছুঁইছুঁই। ২০১০ সালে কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। ওড়িশার গোনাসিকা পাহাড়ের বুক চিরে তিন কিলোমিটার খাল কেটে চাষের জল এনেছিলেন কেওনঝড়ের তালাবৈতরণী গ্রামে। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমে ১০০ একর পাথুরে জমি শস্যশ্যামলা হয়ে উঠেছিল। তাঁর কথা জানাজানি হয় আরও কয়েক বছর পরে। এর জেরে এই বছর, পদ্মশ্রী পুরস্কারের মঞ্চে ডাক পান তিনি। পুরস্কৃত হন সম্মানে।
[caption id="attachment_117904" align="aligncenter" width="1024"]
রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পদ্মশ্রী পুরস্কার নিচ্ছেন দাইতারি।[/caption]
কিন্তু সম্মানের সঙ্গে সঙ্গেই বেড়েছে তাঁর দারিদ্র্যও। কারণ এই পুরস্কার পাওয়ার পর থেকেই আর আগের মতো চাষের কাজ পান না তিনি। দাইতারি বলছেন, "আগে দিনমজুরের কাজ করতাম। ওতেই সংসার চলত। কিন্তু পুরস্কার পাওয়ার পর থেকে লোকে সেই কাজ দিতেই চায় না। বলে, দিনমজুরের কাজ নাকি আমার মতো সম্মানিত লোকের উপযুক্ত নয়! তা তো বুঝলাম, কিন্তু কাজ না করলে খাব কী!"
৭৫ বছরের বৃদ্ধের আক্ষেপ, "ভাত জোটে না বহু দিন। পিঁপড়ের ডিম খেয়ে বেঁচে আছি আমরা। আমার পেনশন মাসে ৭০০ টাকা। ওটুকু দিয়ে কী হয়। বিড়ি বানানোর পাতা আর বাড়িতে বানানো আমের পাঁপড় বেচে যেটুকু রোজগার হয়, তাতে পরিবারের পেট চলে না। পুরস্কারটা ফিরিয়ে দিতে চাই, তাতে যদি কাজ জোটে!"
[caption id="attachment_117909" align="aligncenter" width="800"]
পিঁপড়ের ডিম খেয়ে কাটছে দিন।[/caption]
শুধু তা-ই নয়, শরীর খারাপ হওয়া সত্ত্বেও ৫-৭ কিমি পথ চিকিৎসার জন্য হেঁটে যাতায়াত করতে হয়েছে বৃদ্ধ দাইতারি নায়েককে ৷ গাড়ি জোগাড় করার টাকাও পাননি। আর ওই প্রত্যন্ত গ্রাম্য এলাকায় গণপরিবহনের কোনও ব্যবস্থাই নেই।
শেষমেশ রাগে, অভিমানে, হতাশায় পদ্মশ্রীর মেডেলটি গোয়ালে ঝুলিয়ে রেখে দিয়েছেন তিনি। দাইতারির ছেলে আলেখ নায়েক জানান, পুরস্কার দেওয়ার সময়ে অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সরকার। বলেছিল রাস্তা তৈরি হবে, চাষজমি বাড়বে, খালের সংস্কার হবে, মানুষ কাজ পাবে। কিন্তু কিছুই হয়নি। আলেখের অভিযোগ, তাঁরা পরিষ্কার পানীয় জলটুকুও পান না, পেট ভরে খাওয়াদাওয়া দূরের কথা।
দাইতারি ও তাঁর পরিবারের এই অনটন এবং ক্ষোভকে স্বাভাবিক ভাবেই হাতিয়ার করে নিয়েছে কংগ্রেস। তাদের মুখপাত্র সত্যপ্রকাশ নায়েকের কটাক্ষ, "নবীন পট্টনায়েক চাষীদের জন্য কালিয়া প্রকল্প শুরু করেছেন, এ দিকে জলসেচের জন্য একটা খাল খুঁড়ে দিতে পারে না তাঁর প্রশাসন!" কেওনঝড়ের জেলাশাসক আশিস ঠাকরে অবশ্য জানিয়েছেন, দাইতারিকে বুঝিয়েসুঝিয়ে পুরস্কার ফেরত দেওয়া থেকে আটকাবেন তিনি।