দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্ত্রীকে হাতুড়ি মেরে খুন করে, সিলিং থেকে ঝুলে আত্মঘাতী ৪৫ বছরের এক যুবক। নির্মম এই ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার, মহারাষ্ট্রের পুণে শহরে।
এই ঘটনায় উদ্ধার হয়েছে একটি সুইসাইড নোট, যা পড়ে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি অনেকেই। সাধারণত সম্পর্কের জটিলতা বা ঋণের দায়ে এই ধরনের অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটে থাকে। কিন্তু এই ঘটনাটির কারণ সম্পূর্ণ আলাদা। পুলিশ জানিয়েছে, খুন ও আত্মহত্যার পরে ঘর থেকে যে সুইসাইড নোটটি উদ্ধার হয়েছে, তাতে লেখা রয়েছে, "আমার স্ত্রী মানসিক রোগী। অনেক দিন ধরে খুব অসুস্থ ও। আমি ওকে খুব ভালবাসি, কিন্তু ওর এই কষ্ট আমি আর সহ্য করতে পারছি না। সেই কারণেই এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলাম।"
আত্মহত্যা করার আগে বুধবার ভোর চারটে নাগাদ ভাইয়ের মোবাইলে একটি মেসেজও পাঠিয়েছিলেন পুণের ওই যুবক, গণেশ লেট। যিনি পেশায় এক জন আইটি কর্মী ছিলেন। ওই মেসেজে লেখা ছিল, "আমি এবং আমার স্ত্রী আমাদের জীবন শেষ করে দিচ্ছি।"
কিছু পরে ঘুম থেকে উঠে মেসেজটি দেখার পরে, বহু বার দাদার ফোনে কল করেন ভাই। কিন্তু রিং হয়ে যায় ফোনে। কেউ তোলেনি। তখনই দাদার বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশে রওনা দেন ভাই। পুণের বাড়িতে পৌঁছে অনেক ডাকাডাকির পরেও কেউ দরজা না খোলায়, ঘরের দরজা ভাঙেন প্রতিবেশীদের ডেকে। তখনই দেখেন, মেঝেতে রক্তে ভেসে যাচ্ছে বৌদি ব্রুশালি লেটের নিথর দেহ। এবং দাদা গণেশের দেহ ঝুলছে সিলিং থেকে।
পুলিশে খবর দেওয়া হয় সঙ্গে সঙ্গে। প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশ জানিয়েছে, হাতুড়ি দিয়ে মহিলার মাথায় সজোরে আঘাত করা হয়েছিল একাধিক বার। তাতেই মৃত্যু হয়েছে আইটি কর্মী গণেশের স্ত্রী ব্রুশালি লেটের। এর পরে নিজের গলায় ফাঁস লাগিয়ে সিলিং থেকে ঝুলে পড়েন গণেশ।