দ্য ওয়াল ব্যুরো : বুলন্দসহরে গোরক্ষকদের কীর্তি নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন প্রবীণ অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। প্রতিবাদে তাঁকে আজমিরে এক সাহিত্য উৎসবে ভাষণই দিতে দিল না বিজেপির যুব শাখা ভারতীয় যুব জন মোর্চা। বিপদে পড়ার আশঙ্কায় আজমির ছেড়ে যেতে বাধ্য হলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা।
নাসিরুদ্দিন মন্তব্য করেছিলেন, বিষ সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। যারা নিজেদের হাতে আইন তুলে নেয়, তারা নির্ভয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অনেক জায়গায় আমরা দেখছি, এক পুলিশ অফিসারের মৃত্যুর চেয়ে গরুর মৃত্যু বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, আমি ভীত নই, ক্রুদ্ধ। ভারত আমাদের মাতৃভূমি। কার সাধ্য আছে আমাদের এখান থেকে তাড়িয়ে দেয়?
৬৮ বছরের অভিনেতা নাসিরুদ্দিন যে স্কুলে পড়েছিলেন, সেই সেন্ট আনসেলম সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলে শুক্রবার সাহিত্য উৎসবের সূচনা হওয়ার কথা ছিল। উৎসবের শুরুতে মূল ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল নাসিরুদ্দিনের। কিতু বিপদের আশঙ্কায় তিনি উৎসবের মঞ্চে আসেননি। আজমির ছেড়ে চলে গিয়েছেন।
উৎসবের এক উদ্যোক্তা বলেন, নাসিরুদ্দিন শাহের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ওই অনুষ্ঠান বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। আমরা আজমিরের বাসিন্দাদের ভাবাবেগকেও সম্মান করি।
নাসিরুদ্দিন শাহের আগে আরও অনেকে বুলন্দসহরের ঘটনায় যোগী আদিত্যনাথ সরকারের সমালোচনা করেছেন। ৩ ডিসেম্বর বুলন্দসহর থেকে অদূরে এক গ্রামের ধারে কয়েকটি গরুর মৃতদেহ পাওয়াকে কেন্দ্র করে অশান্তির সূত্রপাত হয়। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগ দেয় বজরং দল। গোলমাল থামাতে গিয়ে সুবোধ কুমার সিং নামে এক পুলিশ ইনস্পেক্টর খুন হন। সেই ঘটনার পরে রাজ্যের প্রথম সারির অফিসারদের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ। তিনি পুলিশ খুনের চেয়ে গোহত্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বেশি। অফিসারদের নির্দেশ দেন, যারা গরু মেরে গ্রামের কাছে ফেলে এসেছিল, তাদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে।
নাসিরুদ্দিন ওই ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করার পরে কয়েকটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন তাঁর তীব্র সমালোচনা করে। কেউ কেউ বলে, তিনি যদি এদেশে থাকতে স্বস্তিবোধ না করেন তাহলে বিদেশে চলে যান। নবনির্মাণ সেনার সভাপতি অমিত জানি নাসিরুদ্দিনের জন্য পাকিস্তানের একটি ওয়ান ওয়ে টিকিট কেটেছেন। উত্তরপ্রদেশের বিজেপি নেতা মহেন্দ্রনাথ পান্ডে বলেন, ১৯৯৯ সালে ‘সরফরোশ’ নামে এক ফিল্মে নাসিরুদ্দিন পাকিস্তানি এজেন্টের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। মনে হয়, তিনি সত্যি সেই ধরনের চরিত্রে পরিণত হচ্ছেন।