
শেষ আপডেট: 17 December 2019 18:30
৩ নভেম্বর। বৃহস্পতির দরজায় কড়া নাড়তে গিয়ে তাজ্জব হয়ে যায় নাসার জুনো। মহাকাশযানের হাই রেজোলিউশন ক্যামেরায় ধরা পড়ে বৃহস্পতির গ্রেট রেড স্পটে প্রলয়নৃত্য চলছে। গ্রহের পিঠ থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত কুণ্ডলী পাকিযে উঠছে গ্যাস, আগুনের পিণ্ড। পঞ্চভুজের মতো জায়গায় জায়গায় হাওয়ার কুণ্ডলী তৈরি হয়েছে।
সান অ্যান্টেনিওতে সাউথওয়েস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটে জুনোর প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর স্কট বল্টন বলেছেন, ‘‘সাইক্লোন চলছে বৃহস্পতিতে। গ্রেট রেড স্পটের ধারেকাছে ছ’টা জায়গায় ঝড় উঠতে দেখা গেছে। আগুন আর ছাইয়ের স্তুপ উড়ছে।’’ এই ঝড়ের সঙ্গে পৃথিবীর ঝড়ের মিল কতটা সেটা এখনও বুঝে উঠতে পারেননি বিজ্ঞানীরা, তবে স্কট বলেছেন, পৃথিবীর সাইক্লোনের থেকে বৃহস্পতির সাইক্লোনের তীব্রতা অনেক বেশি। এই ঝড়ের ধ্বংসলীলা আরও সাঙ্ঘাতিক।

১৯৮৯ সালে বৃহস্পতিতে মহাকাশযান গ্যালিলিও (Galileo Spacecraft) পাঠিয়েছিল নাসা। ২০০৩ সালে গ্যালিলিও ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পরে নাসার জুনোই এখন বৃহস্পতির সর্বক্ষণের সঙ্গী। গ্যালিলিও আভাস দিয়েছিল, জুনো প্রমাণ করেছে, গত সাড়ে ৩০০ বছর ধরে তুমুল ঝড় বয়ে চলেছে বৃহস্পতির পিঠে সুবিশাল একটা এলাকা জুড়ে। এমন প্রলয়ঙ্কর, এত দীর্ঘমেয়াদী ঝড় এখনও পর্যন্ত এই সৌরমণ্ডলের আর কোনও গ্রহে দেখা যায়নি। ২০১৬ সালের জুলাই মাসে নাসার জুনো দেখায়, বৃহস্পতির উত্তর মেরুতে (North Pole) ন’টা এবং দক্ষিণ মেরুতে (South Pole) ছ’টা সাইক্লোন পাক খেয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই ঝড় থামার থামারও নাম নেই, শান্ত হওয়ারও কোনও লক্ষণ নেই।
জ্যোতর্বিজ্ঞানীরা এই ঝড়ের নাম দিয়েছিলেন ‘গ্রেট রেড স্পট’ (জিআরএস) Great Red Spot। বৃহস্পতির মেরু থেকে ২২ ডিগ্রি দক্ষিণে এই এলাকা দেখতে দগদগে লাল ক্ষতের মতো। আয়তনে প্রায় ১০ হাজার বর্গ মাইল বা ১৬ হাজার বর্গ কিলোমিটার। কী কারণে এত প্রলয়ঙ্কর ঝড় বয়ে চলেছে গত সাড়ে ৩০০ বছর ধরে, তার কারণ জানার চেষ্টা করছে জুনো।
[caption id="attachment_169607" align="aligncenter" width="600"]
নাসার জুনো মহাকাশযান[/caption]
https://twitter.com/NASAJuno/status/1205252721885843456
আরও পড়ুন: উকুন কুটকুট করত ডাইনোসরের মাথায়! ধারালো দাঁতের পেল্লায় সেই উকুন দেখে চমকে গেলেন বিজ্ঞানীরা
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যাসট্রোফিজিক্সে জুনোর কো-অর্ডিনেটর আলেসান্দ্রো মুরা জানিয়েছেন, জুনোর ‘জোভিয়ান ইনফ্রারেড অরোরাল ম্যাপার (JIRAM)’-এ ধরা পড়েছে একটি ষড়ভুজাকৃতি কেন্দ্রের (Hexagonal Center) চারপাশে পঞ্চভুজের মতো পাক খাচ্ছে একাধিক প্রলয় সাইক্লোন। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজ্য টেক্সাসের আয়তন যতটা, এই প্রলয় সাইক্লোনগুলির এক একটার আয়তন ঠিক ততটাই। বেশি বই কম নয়।
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়াতে জুনোর বিজ্ঞানী চেঙ লি জানিয়েছেন, এই সাইক্লোন বৃহস্পতির জলবায়ু বদলের নয়া ইঙ্গিত। গুরু গ্রহে খামখেয়ালি জলবায়ু কীভাবে তার রূপ বদলে যাচ্ছে, এই পর্যবেক্ষণ সেটাই প্রমাণ করবে। বৃহস্পতির উপগ্রহ আইও-তেও চলছে ঝড় ও আগ্নেয়গিরির তাণ্ডব। বৃহস্পতির এই উপগ্রহের শরীর তৈরি হয়েছে আগ্নেয়গিরি দিয়ে। অন্তত ৪০০-৫০০ আগুনখেকো আগ্নেয়গিরি রয়েছে আইও-তে। এরা ফাটলে লাভার স্রোত আর গ্যাসীয় পিণ্ড ছড়িয়ে পড়ে ৩০০ মাইল এলাকা জুড়ে।
ছবি সূত্র: নাসা