
শেষ আপডেট: 8 September 2023 18:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার দিল্লিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলায় টুইট (Tweet) করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই টুইটকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। তারা মনে করছে বাংলাদেশের প্রতি মোদীর বিশেষ আন্তরিকতাই প্রকাশ পেয়েছে বাংলায় টুইটে। কারণ বাংলা সেদেশের রাষ্ট্রভাষা এবং এই ভাষার দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে স্বাধীনতার সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেছিল। ফলে মাতৃভাষা নিয়ে সে দেশের মানুষের আবেগ তুলনামূলকভাবে বেশি।
আর মাস তিন সাড়ে তিন পর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই সময় ভারতের সঙ্গে। হাসিনা সরকারের সম্পর্ক নিয়ে সে দেশে বিপুল জল ঘোলা হচ্ছে। বিরোধী দলের একাংশ প্রচার করছে মোদী সরকার আর বাংলাদেশে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় চাইছে না।
দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর বাংলাদেশের এক শীর্ষ কর্তা বলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলায় লেখা টুইট বুঝিয়ে দিয়েছে প্রতিবেশী এই দেশটির বর্তমান শাসকদের প্রতি তিনি কেমন ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই টুইট বৈঠক নিয়ে দেশে হাসিনা বিরোধীদের অপপ্রচার আটকাতে সাহায্য করবে। অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে সরকারি বয়ান। গত বছর সেপ্টেম্বরে সফরের পর বাংলাদেশের বিরোধীরা সরব হয়েছিলেন, হাসিনাকে বিমুখ করেছেন মোদী। কিন্তু এদিনের বৈঠকের পর মোদীর টুইট বিরোধীদের জবাব দিল বলেই মনে করছেন ওই দেশের শাসক দলের নেতারা।
ওই সরকারি কর্তা বলেন, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ভারতের ক্রিকেট অধিনায়ক থাকাকালে ঢাকায় একটি ম্যাচ শেষে তাঁকে বাংলায় বক্তব্য পেশ করার অনুরোধ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা। কিন্তু সৌরভ যে কোনও কারণেই হোক ইংরিজিতে বক্তব্য পেশ করেছিলেন। স্বভাবতই শুক্রবার দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর নরেন্দ্র মোদী হিন্দি বা ইংরেজির পরিবর্তে বাংলায় টুইট করায় বাংলাদেশ খুশি। কারণ বাংলা বাংলাদেশের রাষ্ট্র ভাষা হলেও ভারত সরকারের সরকারি কাজের ভাষা নয়।
কূটনৈতিক মহলের একাংশ আগে থেকেই বলে আসছে, জি ২০ সম্মেলনে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়ে মোদী সরকার বুঝিয়ে দিয়েছে, হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি তাদের পূর্ণ আস্থা আছে। বাংলাদেশ জি ২০' র সদস্য নয়। দক্ষিণ এশিয়ায় একমাত্র বাংলাদেশকেই ভারত অতিথি হিসাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে যখন শেখ হাসিনা সে দেশের ক্ষমতায়।
শুধু শীর্ষ সম্মেলনেই নয়, জি২০ (G20 Summit 2023) নিয়ে গত এক বছরে অনুষ্ঠিত যাবতীয় অনুষ্ঠানেও আমন্ত্রণ জানানো হয় প্রতিবেশী দেশটিকে।
বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে দুই প্রধামন্ত্রীর মধ্যে কথা হয় কিনা তা নিয়ে কৌতূহল ছিল মোদী হাসিনার বৈঠকে ঘিরে। এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবদুল মোমেন দিল্লিতে জানান, 'দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে হয়নি। তবে একান্ত আলোচনায় এই প্রসঙ্গ উঠেছে কিনা বলতে পারব না।' দুই প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু সময় একান্তে কথা বলেন।
মোমেন জানান, বৈঠকে আঞ্চলিক শান্তি স্থিতিশীলতা নিয়ে কথা হয়। দুই দেশই এই ব্যাপারে সহমত হয়েছে। তিনি জানান, 'ভারতের উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলিতে শান্তি বিরাজ করছে। এজন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।'
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে হাসিনা সরকার ক্ষমতায় আসার পর সে দেশ থেকে ভারত বিরোধী শক্তিকে নির্মূল করেছে। অসম-সহ উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলিতে একদা সক্রিয় জঙ্গি সংগঠনগুলি বিগত ১৪ বছর যাবত হাসিনা সরকার থাকায় বাংলাদেশ থেকে সাহায্য পাচ্ছে না। সে দেশে বিএনপির সরকার থাকার সময়ে বাংলাদেশই ছিল বহু ভারত বিরোধী জঙ্গি সংগঠনের ঘাঁটি। উত্তর পূর্বে শান্তি বিরাজ করায় বৈঠকে মোদীর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশকে হাসিনা সরকার বড় প্রাপ্তি বলে মনে করছে।
আসলে হাসিনা এই সফরে ভারত সরকারকে এটাই বোঝাতে চেয়েছেন, উপ মহাদেশে শান্তি বহাল রাখতে হলে বাংলাদেশে তাঁর আওয়ামী লিগ সরকারের ক্ষমতায় থাকা জরুরি। বাংলাদেশে ভোট নিয়ে কিছু কঠোর পদক্ষেপ করেছে আমেরিকা সহ পশ্চিমী দুনিয়ার কিছু দেশ। তাতে উল্লসিত সে দেশের বিরোধীরা। হাসিনা সরকার চাইছে আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতায় থাকার প্রয়োজনীয়তা আমেরিকাকে বুঝিয়ে বলুক ভারত।
আরও পড়ুন: আমার মেয়াদে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক অনেক এগিয়েছে, হাসিনার সঙ্গে বৈঠকের পরে মোদী