
শেষ আপডেট: 15 August 2023 09:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোটের আগে মঙ্গলবার স্বাধীনতা দিবসে (77th Independence Day) লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশে বক্তৃতা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। কিন্তু বক্তৃতাতেই প্রত্যয়ের সঙ্গে জানিয়ে গেলেন, আগামী বছর ফের এই লালকেল্লায় তিনি বক্তৃতা দিতে আসবেন। দেশের মানুষের আশা, আকাঙ্ক্ষা, সাফল্য, উন্নয়নের কথা ফের তুলে ধরবেন তিনি।
তাঁর কথায়, “২০১৪ সালে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলাম। রিফর্ম, পারফর্ম, ট্রান্সফর্মের মাধ্যমে সেই প্রতিশ্রুতিকে বিশ্বাসে বদলে দিয়েছি। কঠোর পরিশ্রম করেছি। দেশের জন্য করেছি। জীবনপণ করে তা করেছি। আগামী বছর ১৫ অগস্টের দিন, দেশের সাফল্য, আপনাদের সামর্থ্য ও উন্নতির কথা বলতে ফের এই লালকেল্লায় আসব।”

এখানেই না থেমে মোদী বলেন, “আমি আপনাদের জন্য বাঁচি। আমার যদি স্বপ্ন আসে, তাহলে সেই স্বপ্ন আসে শুধু আপনাদের জন্য। আমার যদি ঘাম হয়, তাহলে আপনাদের জন্য হয়। কারণ, আপনারাই আমার পরিবার। আমি আপনাদের পরিবারের শরিক বলেই আপনাদের জন্য লড়াইয়ের জন্য সঙ্কল্পবদ্ধ।”
দেশবাসীরা আর ‘মিত্রোঁ’ নয়, ‘পরিবারজন’ বলে কেন সম্বোধন মোদীর, কী কৌশল তাঁর
স্বাধীনতা দিবসের দিন লালকেল্লার বক্তৃতায় দেশের মানুষকে সরকারের সরকারের সাফল্য ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি জানান দেওয়া বহুদিনের রীতি। অতীতে অটলবিহারী বাজপেয়ী, মনমোহন সিং প্রত্যেকেই তা করেছেন। কিন্তু এদিন মোদীর বক্তৃতায় তাঁর ও তাঁর দলের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বারেবারেই প্রকট হয়েছে।
জাতির উদ্দেশে বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এদিন বলেন, "২০৪৭ সালে দেশের স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্ণ হবে। এটা অমৃতকাল। এই কালখণ্ডের সবচেয়ে সোনালি সময় হল আগামী পাঁচ বছর। তাই আগামী পাঁচ বছর খেয়াল রাখতে হবে যে আমাদের সামান্যতম যেন ভুল না হয়। মনে রাখতে হবে যে, দেশের জন্য সবচেয়ে অশুভ হল তিনটি বিষয়— দুর্নীতি, পরিবারতন্ত্র ও তুষ্টিকরণ। এই তিন অশুভ শক্তির বিরুদ্ধেই আমাদের লড়তে হবে।"

এরই পাশাপাশি কৌশলে ফের স্থায়ী গড়ার গঠনের জন্য আবেদন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০১৪ ও ২০১৯ সালে দেশে স্থির ও স্থায়ী সরকার গঠনের পক্ষে মানুষ ভোট দিয়েছিল। তার আগের তিন দশক ছিল অস্থির সময়। সেই সময় ছিল অনিশ্চয়তায় ভরা। কিন্তু দেশে স্থায়ী সরকার গঠনের পর উত্তোরোত্তর অর্থনৈতিক বৃদ্ধি হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “মোদী আপনাদের কথা দিচ্ছে, পাঁচ বছরের মধ্যে বিশ্বের তিন বৃহৎ অর্থনীতির মধ্যে অন্যতম হবে ভারত।”

মোদী আরও বলেন, “আমি গত দশ বছরের হিসাব তিরঙ্গাকে সাক্ষী রেখে লালকেল্লা থেকে দিতে চাই। আপনাদেরও মনে হবে এত বড় বদল? এত সামর্থ্য! আগে কেন্দ্র থেকে রাজ্যগুলির কাছে ৩০ লক্ষ কোটি টাকা যেত। গত ৯ বছরে তা বেড়ে ১০০ লক্ষ কোটি টাকা হয়েছে। আগে স্থানীয় প্রশাসনের উন্নয়নের জন্য কেন্দ্র থেকে ৭০ হাজার কোটি টাকা যেত, এখন ৩ লক্ষ কোটি টাকা যায়। আগে গরিবের ঘর বানানোর জন্য ৯০ হাজার কোটি টাকা খরচ হত এখন চার লাখ কোটি টাকা খরচ হয়।"

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তৃতা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেছে কংগ্রেস। লোকসভায় কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, “লালকেল্লায় অনেক প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা দেখেছি ও শুনেছি। কিন্তু লালকেল্লার মঞ্চ থেকে এরকম মিথ্যাচার, এরকম রাজনৈতিক বক্তৃতা এই প্রথম। ভোটে লড়া ছাড়া এই প্রধানমন্ত্রী কিচ্ছু জানেন না।"
বিশ্বকর্মা পুজোয় ধোপা, নাপিত, স্বর্ণকারদের জন্য নতুন প্রকল্প ঘোষণা, লালকেল্লায় জানালেন প্রধানমন্ত্রী