
শেষ আপডেট: 2 August 2022 17:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিনের (China) হুঁশিয়ারির তোয়াক্কা না করেই তাইওয়ান পৌঁছলেন ন্যান্সি পেলোসি (Nancy Pelosi)। ভারতীয় সময় রাত সাড়ে আটটা নাগাদ তাইওয়ানের (Taiwan) রাজধানী তাইপেইয়ের শোংসান বিমানবন্দরে পৌঁছলেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন তাঁর সফরসঙ্গীরাও। সকলকেই বিমানবন্দরে স্বাগত জানান সেদেশের সরকারের প্রতিনিধিরা।

সূত্রের খবর, এদিন তাঁদের বিমান অবতরণের সময় শোংসান বিমানবন্দরের আলো কমিয়ে দেওয়া হয়। জানা গেছে, সে সময় তাইওয়ানের আকাশসীমার কাছে চিনা যুদ্ধবিমান উড়ছিল। মনে করা হচ্ছে আমেরিকান অতিথিদের নিরাপত্তার কারণেই এমনটা করা হয়েছে।
ট্যাঙ্ক দিয়ে তাইওয়ান ঘিরছে চিন, মার্কিন স্পিকারের সফর নিয়ে বেজিং-ওয়াশিংটন নয়া সংঘাত
এদিন ন্যান্সি পেলোসিরা তাইওয়ানে পৌঁছে যাওয়ার পর একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে, অন্ধকারে ঘেরা শোংসান বিমানবন্দরে টর্চ জ্বালিয়ে পেলোসি এবং তাঁর সঙ্গীদের স্বাগত জানাচ্ছেন তাইওয়ান সরকারের প্রতিনিধিরা। স্থানীয় সময় সাড়ে ১০টা নাগাদ তাইওয়ানে অবতরণ করেন পেলোসি। সেখানে নেমেই তিনি টুইট করেন। লেখেন, ‘তাইওয়ানের গণতন্ত্রের প্রতি সম্মান ও সমর্থন জানাতে আমেরিকা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই আমাদের প্রতিনিধিদলের এই সফর।’
ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান আসা নিয়ে প্রথম থেকেই আপত্তি জানিয়েছে বেজিং। এমনকি কয়েক দিন আগেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছিলেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিংপিং। সেই সময়েই তাইওয়ান নিয়ে বাইডেনকে সতর্ক করেছিলেন জিংপিং, সরাসরি বলেছিলেন, তাইওয়ান ইস্যুতে আমেরিকা যেন ‘আগুন নিয়ে খেলা’ না করে। এতে চিনের ‘এক চিন’ নীতির বিরুদ্ধে যাওয়া হবে বলেও দাবি করা হয় চিনের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে। বলা হয়, ‘এর ফল ভাল হবে না।’ যদিও বাইডেন চিনকে পাল্টা জানিয়ে দিয়েছিলেন আমেরিকা তাইওয়ানের পক্ষেই রয়েছে।
কূটনীতিকরা বলছেন আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্টের পরেই স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির অবস্থান। ক্ষমতাসীন ডেমোক্র্যাট দলের অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন নেতা তিনি। বিশ্ব রাজনীতির মহলে তিনি কট্টর চিন-বিরোধী বলেই পরিচিত। তিনি প্রথম থেকেই চিনের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সোচ্চার। এর আগেও তিনি চিন সফরে গিয়ে তিয়েনআনমেন স্কোয়ারে গিয়েছিলেন, বিদ্রোহীদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। এমনকি ভিন্ন মতের কারণে চিন যাঁদের নির্বাসন দিয়েছে, তাঁদের সঙ্গেও যোগাযোগ রয়েছে ন্যান্সির।