দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে কাল বিষ্যুদবার ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো রেলের একটি অংশের উদ্বোধন হতে চলেছে। বিকেল পাঁচটায় সল্টলেকের সেক্টর ফাইভ মেট্রো স্টেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে রেলের একটি রেককে সবুজ পতাকা দেখাবেন রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল।
কিন্তু প্রাক সন্ধ্যাতেই রাজনৈতিক জলঘোলা শুরু হয়ে গেল। মেট্রোর তরফে যে নিমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে তাতে লেখা রয়েছে, প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। সম্মানীয় অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। তাছাড়া ‘গৌরবময় উপস্থিতি’ থাকবে রাজ্যের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের মন্ত্রী সুজিত বসু, সাংসদ কাকলী ঘোষদস্তিদার ও বিধাননগর পুরসভার মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তীর।
একে তো আমন্ত্রণপত্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নাম নেই। তার উপর বুধবার রাতে জানা গিয়েছে, সুজিত বসু, কাকলি ঘোষদস্তিদার বা কৃষ্ণা চক্রবর্তী কেউই ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন না। কাকলি ঘোষদস্তিদার যেমন জানিয়েছেন, তিনি আমন্ত্রণপত্র পাননি। তা ছাড়া পেলেও যেতে পারতেন না, কারণ তিনি দিল্লিতে রয়েছেন। সাংবাদ মাধ্যমকে সুজিত বসুও তাঁর অপারগতার কথা জানিয়েছেন।
প্রশ্ন হল, কলকাতায় এতো বড় একটি প্রকল্পের উদ্বোধন হবে, রেলমন্ত্রী তা উদ্বোধন করবেন, সেখানে মুখ্যমন্ত্রীকে কি আমন্ত্রণ করা হয়নি। কারণ, ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোড়া থেকেই প্রবল আগ্রহ ও উৎসাহ ছিল।
এ ব্যাপারে এ দিন রেল বা মেট্রো রেলের তরফে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, তাঁর মোবাইলই বন্ধ ছিল। তবে বিজেপি সূত্রের খবর, কাল এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিশদে ব্যাখ্যা দিতে পারেন বাবুল।
অন্যদিকে রেলমন্ত্রকের এক অফিসার বলেন, “এটুকু বুঝতে হবে যে রেলমন্ত্রক চাইলেই আমন্ত্রণ পত্রে মুখ্যমন্ত্রীর নাম রাখতে পারেন না। তাতে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের সম্মতি প্রয়োজন”। এর অতিরিক্ত অবশ্য তিনি কিছু বলতে চাননি।
তবে পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, প্রকল্পের উদ্বোধন নিয়ে টানাটানিও বাংলার রাজনীতির দস্তুর হয়ে উঠেছে। এর আগে দেখা গিয়েছে, আসানসোলে সরকারি অনুষ্ঠানে স্থানীয় সাংসদ হিসাবে রাজ্য সরকার বাবুলকে আমন্ত্রণই জানায়নি। আবার কেন্দ্রের প্রকল্প রাজ্যের মন্ত্রীরা একতরফা উদ্বোধন করে দিয়েছেন। এমনকি একবার একটা রেল ওভারব্রিজের দু'বার উদ্বোধন হয়েছিল। একবার কেন্দ্রের মন্ত্রী তা উদ্বোধন করেন। পরে আবার রাজ্যের মন্ত্রী গিয়ে ফিতে কাটেন। সুতরাং ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর উদ্বোধন নিয়ে এই টানাপোড়েনের মধ্যে আশ্চর্যের কিছু নেই। বড় কথা হল, কলকাতা পুরসভার ভোট আসছে। হয়তো সেই কারণেই ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর উদ্বোধন নিয়ে আরও বেশি হতে পারে।