
শেষ আপডেট: 27 October 2023 18:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: আইটিআই কলেজের নামফলক যখন মুছে দেওয়া হল, তখন সন্দেহ হয়েছিল গ্রামের মানুষের। মল্লিক বাড়ির ছেলে জেলে যেতে এখন অনেক কিছু পরিষ্কার হচ্ছে কালনার মন্তেশ্বরের পূর্ব খাঁপুর গ্রামের বাসিন্দাদের। দেশের স্বাধীনতার জন্য ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন পূর্ব খাঁপুর গ্রামের বাসিন্দা স্বাধীনতা সংগ্রামী শক্তিপদ মল্লিক। তাঁর পরিবারেরই ছেলে রাজ্যের অন্যতম প্রভাবশালী মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা না হলেও খ্যাতি-সম্মানে ঘাটতি ছিল না কোনও। গ্রামের কেন্দ্রে বিলাসবহুল প্রাসাদোপম মল্লিকবাড়িটিও বরাবরের আকর্ষণের কেন্দ্র।
গ্রামবাসী এবং আত্মীয়রা শুক্রবার সকালে আচমকাই টিভির পর্দায় দেখতে পান জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক তথা গ্রামের বালুদা ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই আলোড়ন সৃষ্টি হয় গ্রামে। মন ভাঙে মন্তেশ্বর পূর্ব খাঁপুর গ্রামের বাসিন্দাদের অনেকেরই। গ্রামের বাসিন্দা বিকাশ মণ্ডল, জীতেন দাসরা জানান, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক গ্রামের অনেক উন্নতি করেছেন। যেমন রাস্তাঘাট, আইআইটি কলেজ, জলের প্রকল্প এবং আরও অনেক কিছু হয়েছে তাঁর জন্য। তবে তাঁদের সম্পত্তি আগে যা ছিল তার থেকে দ্বিগুণ বেড়েছে। তাঁরা বলেন, “নিজেদের দেশের বাড়িতে খুব একটা বেশি আসতেন না মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয়। মাঝেমধ্যে এসে দাদার সঙ্গে দেখা করতেন। কিন্তু এখন পরিবারের সবাই কলকাতার বাসিন্দা। এখানে কেউ থাকেন না। শুধু রয়েছে তাঁদের ঝাঁ চকচকে ভিটে বাড়িটি।”
গ্রামবাসীদের কানাঘুষোর মধ্যেই সরব হয়েছেন বিরোধীরা। স্থানীয় বিজেপি নেতা ঝুলন হাজরার অভিযোগ, মন্ত্রীর বাড়ি লাগোয়া একটি রেশন দোকান রয়েছে। এই রেশন দোকানটি মন্ত্রীর এক ভাইয়ের নামে। নিজের প্রভাব খাটিয়ে পরিবারের সদস্যদের রেশন দোকান-সহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পাইয়ে দিতে পিছুপা হননি তিনি। পাশাপাশি গ্রামজুড়ে নামে-বেনামে যে বিপুল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি করেছেন তার মূল্যও কয়েক কোটি টাকা। বর্তমানে প্রায় ৭০-৮০ বিঘা জমির মালিকানা রয়েছে মল্লিক পরিবারের।
সিপিএম নেতা ওসমান গনি সরকার বলেন, “মন্তেশ্বরের বামুনপাড়া এলাকায় একটি আইআইটি কলেজ রয়েছে মন্ত্রীর ভাইয়ের নামে। তা বেশ কয়েক বিঘা জমিতে তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় এজেন্সির হানাদারি শুরু হতেই রাতারাতি কলেজের সাইনবোর্ডটি রঙ দিয়ে মুছে দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের পরিবারের অতীতে যত সম্পত্তি ছিল, মন্ত্রী হওয়ার পরে তাঁর ও তাঁর পরিবারের সম্পত্তির পরিমাণ বহু গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।”