
শেষ আপডেট: 3 November 2023 13:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া: বাড়ি থেকে বৃদ্ধার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল নদিয়ার চাকদহ থানার শিমুরালির চাদুরিয়া এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃদ্ধার নাম জ্যোৎস্না হালদার।
পাড়া প্রতিবেশীদের অভিযোগ, বৌমার অত্যাচারে অসহ্য হয়ে ৮০ বছরের জ্যোৎস্নাদেবী আত্মঘাতী হয়েছেন। অনেকে আবার 'খুনের' যুক্তিও খাড়া করছেন। তাঁদের দাবি, বৃদ্ধার নাতনির শ্বশুরের সঙ্গে বৌমার পরকীয়ার কথা জেনে ফেলেছিলেন। তাই তাঁকে 'খুন' করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে বৌমার বিরুদ্ধে তাঁদের এমনই অভিযোগ। ইতিমধ্যে পুলিশ বৌমা আরতি হালদারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের চাকদহ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রতিবেশী কবিতা মণ্ডলের অভিযোগ, দিনরাত শাশুড়ির উপর অত্যাচার চালাত বৌমা। বৃদ্ধার নাতনির শ্বশুরের সঙ্গে পরকীয়া রয়েছে বৌমার, সেকথা জেনে ফেলেছিলেন ওই বৃদ্ধা। বৌমাকে বোঝানোর চেষ্টাও করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেকথা উঠলেই বৃদ্ধা শাশুড়িকে মারধর করত ওই মহিলা। সুমিতাদেবীর দাবি, ওই বৃদ্ধা আত্মঘাতী হননি। তাঁকে খুন করা হয়েছে।
মৃতের বোনঝি সুলক্ষ্মী বিশ্বাস জানিয়েছেন, শুক্রবার বৃদ্ধার নাতনির শ্বশুর তাঁদের বাড়িতে এসেছিলেন। বৌমা আরতি সঙ্গে তাঁর বেয়াইয়ের তুমুল হাসি ঠাট্টা চলছিল। সেই সময় বৃদ্ধা জোৎস্নাদেবী তাতে বাধা দেন। অভিযোগ, এতে আরতির রাগ হয়েছিল। পরে বৃদ্ধা শাশুড়িকেও সে মারধর করে। এরপরেই রাতে জোৎস্নাদেবীর দেহ ঘর থেকে উদ্ধার হয়। এতে সুলক্ষ্মীর দাবি, বৌমা আরতিই জোৎস্নাদেবীকে খুন করে ঝুলিয়ে দিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছেন, ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে জানার পরেই তারা ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। সেখান পৌঁছলে এলাকার মানুষের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। পরে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। বৃদ্ধার বৌমাকে আটক করে নিয়ে থানায় নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।