
শেষ আপডেট: 6 March 2024 20:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া: সকালে পরিচারিকা এসেছিলেন। ভিতর থেকে বন্ধ ছিল দরজা। ডাকাডাকি কর সাড়া পাননি মালিকের। পুলিশ আসার পরে দরজা খুলতেই পাওয়া গেল বৃদ্ধ দম্পতির ঝুলন্ত দেহ। বুধবার এই ঘটনায় নদিয়ার রানাঘাটের কোর্ট পাড়ায় শোরগোল ছড়াল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম হেমন্ত সরকার ও শীলা সরকার। ৭২ বছরের হেমন্তবাবুর অসুস্থ স্ত্রী শীলাকে নিয়ে একাই সেখানে থাকতেন। দম্পতির একমাত্র ছেলে চাকরি সূত্রে বাইরে থাকেন। মাঝে মধ্যে তিনি বাড়িতে আসেন।
পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার সকালে পরিচারিকা কাজ করতে এসেছিলেন। বাড়ি দরজা তখন ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। ডাকাডাকির পরেও ওই দম্পতি দরজা খোলেননি। পাশের বাড়িতেই থাকেন বৃদ্ধের ভাই। পরিচারিকা তাঁদের গিয়ে বিষয়টি জানান। এর পরে সকলেই ডাকাডাকি শুরু করলে কোনও সারা পাওয়া যায়নি। সন্দেহ হওয়ায় এলাকার কাউন্সিলরকে খবর তাঁরা। কাউন্সিলর থানায় ফোন করে পুলিশে খবর দেয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকতেই মেলে দম্পতির ঝুলন্ত দেহ। এরপরেই সেটিকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়।
হেমন্তবাবুর ভাই শ্যামল সরকার বলেন, "দুজনেই অসুস্থ ছিলেন। আর্থিক সমস্যা ছিল। ছেলে ও বউমা কাজের সূত্রে রাজ্যের বাইরে থাকেন। এতো দূর থেকে বাড়িতে আসা তাঁদের পক্ষেও সম্ভব হয় না। ফলে বাড়ি একাই দাদা ও বউদি থাকতে হয়। ফলে হতাশা গ্রাস করেছিল তাঁদের।"
আরও এক আত্মীয় স্বপ্না সরকার বলেন, "কয়েকদিন আগে বউদি পায়ে অপারেশন হয়েছিল। তাই নিয়ে খুবই ভুগছিলেন। একবারে শয্যাসায়ী হয়ে পড়েছিলেন। তাঁকে দেখভাল করতে হতো বৃদ্ধ দাদাকে। তাই হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন দুজনেই।"
পুলিশ সূত্র জানা গিয়েছে, দম্পতির মৃতদেহের কাছ থেকে একটি সুইসাইড নোট পাওয়া গিয়েছে। সেটা দেখে প্রাথমিক অনুমান ওই দম্পতি রোগভোগ ও আর্থিক অনটনে অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। তাই তাঁরা আত্মঘাতী হয়েছেন।