
হাতে রিভলভার নিয়ে তৃণমূল কর্মী
শেষ আপডেট: 3 November 2024 19:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তোলার দাবিতে তৃণমূল কর্মীর বাড়ির সামনে অস্ত্র হাতে দাপাদাপি করলেন আর এক তৃণমূল কর্মী। প্রথমে টাকা চেয়ে দলের ওই কর্মীকে হুমকি দিয়েছিলেন শাসকদলের এক কর্মী। ধমক দিয়ে কাজ না হওয়ায় রিভলবার উচিত শাসানির অভিযোগ উঠল শাসক দলের কর্মীর বিরুদ্ধেই।
পুলিশে জানিয়ে কোনও লাভ হয়নি তাই ভয়ে বাড়ি ছেড়েছেন অভিযোগকারী। যদিও গোটা ঘটনাকে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব ব্যক্তিগত সমস্যা বলেই দাগিয়ে দিয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়া ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওয় (দ্য ওয়াল ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি) দেখা যায় এক ব্যক্তি প্রকাশ্যে রিভলবার হাতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। হুমকিও দিচ্ছেন অন্য একজনকে। স্থানীয় তৃণমূলের সূত্র মারফত খবর, যে ব্যক্তির হাতে ওই রিভার দেখা গেছে তাঁর নাম হিরণ বিশ্বাস। নদিয়ার ভীমপুর থানা এলাকার বাসিন্দা হিরণ তৃণমূলের সক্রিয় সদস্য।
যে তৃণমূল কর্মীকে হিরণ হুমকি দেন বলে অভিযোগ তিনি প্রাণের ভয়ে এখন বাড়ি ছেড়ে অন্য জায়গায় গিয়ে থাকছেন। তাঁর দাবি তোলাবাজি এবং জুলুমে অতিষ্ঠ হয়ে আগেই তিনি হিরণের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। যেহেতু হিরণ স্থানীয় তৃণমূল অঞ্চল সভাপতির ঘনিষ্ঠ, তাই পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে কোনও রকম ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ।
যদিও গোটা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হিরণ। বলছেন কোনও রকম হুমকি দেননি তিনি। হাতে কোনও আগ্নেয়াস্ত্রও ছিল না। পরিকল্পনা করেই তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে অভিযোগকারী তৃণমূল কর্মীর দাবি, কয়েকদিন আগেই তাঁকে মোটা টাকা চেয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় প্রথমে ভয় দেখানো হয়। তারপর বাড়ির সামনেই রিভলভার হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন হিরণ। পুলিশে জানানোর পর আরও বেশি করে হিরণ ও তাঁর দলবল তাঁকে শাসাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। হুমকি দেওয়া হয়েছে অভিযোগ না তুললে খুনও করা হবে।
স্থানীয় তৃণমূল গোটা ব্যাপারটাকে ব্যক্তিগত সমস্যা বলে দাগিয়ে দিয়েছে। এই সুযোগে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব বলছে প্রশাসন দলদাসের আচরণ করছে অনেকদিন ধরেই। এ রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু নেই।
কৃষ্ণনগর পুলিশ জানাচ্ছে অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করে অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার সাংবাদিক বৈঠক করে এ নিয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।