
নদিয়া স্কুল
শেষ আপডেট: 26 June 2024 17:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া: গরমের জন্য সাতসকালে স্কুলে চলে আসছে পড়ুয়ারা। মিডডে মিল খেতে তো দশটা বেজে যায়। খালি পেটে কতক্ষণ পড়াশোনা করা যায়! এইসব ভেবে পড়ুয়াদের জন্য ব্রেক-ফাস্ট চালু করলেন মায়াপুর পূর্ব মোল্লাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকারা।
ছাত্র-ছাত্রীদের শারীরিক পুষ্টি ও পড়াশোনাকে গুরুত্ব দিয়ে এমনই এক উদ্যোগ বলে জানালেন তাঁরা। বর্তমানে এই স্কুলের প্রাক প্রাথমিক শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১৮৮ জন ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা করে। তীব্র গরমে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত সরকারি বিদ্যালয়ে মর্নিং স্কুল শুরু হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের সকাল সাতটায় স্কুলে চলে আসতে হচ্ছে। শিক্ষকরা জানান, প্রতিটি ক্লাসে খোঁজখবর নিয়ে জানা গেল সিংহভাগ ছেলেমেয়ে খালিপেটে খিদে নিয়েই সকাল সাতটার মধ্যে স্কুলে চলে আসছে।
স্কুলে মিডডে মিল রান্না হয় প্রতিদিনই। কিন্তু খেতে খেতে প্রায় দশটা বেজে যায়। এই তিন ঘণ্টা খালি পেটে খিদে নিয়েই থাকতে হয় পড়ুয়াদের। খিদের কষ্টে সন্তানসম পড়ুয়াদের পড়াশোনাটা যে ঠিকঠাক হয় না, সেটা বুঝতে পারেন দিদিমণি আর মাস্টারমশাইরা। এই পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে ছাত্র ছাত্রীদের শারীরিক পুষ্টি ও পড়াশোনাকে গুরুত্ব দিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিরণ শেখ, বিদ্যালয়ের বাকি শিক্ষক শিক্ষিকাদের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করেন যতদিন মর্নিং স্কুল চলবে ততদিন 'ব্রেকফাস্ট' দেওয়া হবে পড়ুয়াদের। তারপর দশটার সময় মিড ডে মিল খাবে তারা।
হিরণ শেখ বলেন, "ডাক্তারবাবুর পরামর্শ নেওয়া হয়েছে যাতে 'ব্রেকফাস্টে' পুষ্টিকর খাবার দেওয়া যায়। সপ্তাহে বিভিন্ন দিনে বিস্কুট, কনফ্লেক্স, কেক, মুড়ি ইত্যাদি দেওয়া হচ্ছে। যেমন মঙ্গলবারে বিদ্যালয়ে উপস্থিত সকল ছাত্রছাত্রীদের বিস্কুট ও কর্নফ্লেক্স দেওয়া হয়। বুধবার দেওয়া হয় কেক।"
স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারাই এই দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। স্কুলে এসেই বাহারি খাবার পেয়ে খুশি পড়ুয়ারা। পেট ভরিয়ে মন দিয়ে চলছে পড়াশোনা।