
রানু মণ্ডলের বড়দিন কাটল বাসি ভাত খেয়ে
শেষ আপডেট: 25 December 2024 19:57
কাজল বসাক, নদিয়া
যিশুর জন্মদিনে উৎসবের আলো সর্বত্র। আগের রাত থেকেই চকোলেটের স্বাদ-কেকের গন্ধে মজেছেন মানুষ। শুধু খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীরাই নন, সেই উৎসবে সামিল অন্যরাও। কিন্তু বিশেষ এই দিনটিও অন্ধকারেই কাটালেন রানু মণ্ডল। রানাঘাট বেগোপাড়া চার্চ থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে তাঁর বাড়ি। তবুও এই বিশেষ দিনটায় চার্চে গিয়ে প্রার্থনা করেননি। আগের রাতে জল ঢেলে রাখা অল্প ভাত ছিল। দিনান্তে সেটাই খেয়েছেন একবার।
চার্চে ঘুরতে এসে বুধবার দিনভর অনেকেই রানু মণ্ডলকে দেখতে তাঁর বাড়িতে এসেছেন। তাদের আব্দার মেটাতে গান শুনিয়েছেন একের পর এক। মাঝেমাঝেই অবশ্য সব সুর ঢাকা পড়ে গেছে হতাশায়। কীভাবে প্রতিদিন নানা নির্যাতনের মুখে পড়তে হয় বেরিয়ে পরে তাও। জানান, খ্রিস্টমাস ইভে একাঘরে ঠান্ডায় জমে যাচ্ছিলেন। কিছুই তো করার নেই। তাই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। হঠাৎই জানলার ঠিক বাইরে কেউ পটকা ফাটায়। তাঁর কথায়, "জানলার কাচগুলি এভাবেই ভেঙে ফেলল। আসলে আমার উপর অত্যাচার চালিয়েই ওদের সুখ। কাকে জানাব। কে শুনবে আমার কথা। সবাই আসে। আমাকে গান শোনাতে বলে। গান গাই। সেই গান নিয়ে আবার আমাকেই হাসির খোরাক করে।"
রানাঘাটের বেগোপাড়া চার্চ থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে রানুর বাড়ি। এক সময় রানাঘাট প্ল্যাটফর্মের উপর গান গেয়ে ভিক্ষে করতেন। হঠাৎই একদিন তাঁর গান ভাইরাল হয়। ভাগ্য খোলে রানুর। পাড়ি দেন আরব সাগরের তীরে। সেখানে হিমেশ রেশমিয়ার সঙ্গেও গান গেয়েছিলেন। তারপর ভাগ্যের ফেরে আবার রানাঘাটে ফিরে আসা। তারপর থেকে ক্রমশ কঠিন থেকে কঠিনতর হয়েছে জীবন।
আজ বড়দিন। খ্রীষ্টধর্মাবলম্বীদের কাছে বড় আনন্দের দিন। রানুর ভাঙা বাড়িতে কিন্তু উৎসবের আলো পৌঁছয়নি। রানু জানালেন, সারা বছরটাই বাজে গিয়েছে তাঁর। সুখের দিন এসেছিল সেই ২০১৯এ । কিন্তু কিছু মানুষের জন্যই সেই সময়টাকে ধরে রাখতে পারেননি তিনি। বললেন, "কাল রাতের বাসি ভাত ছিল শুধু। আজ সেটাই খেলাম। কোনও টাটকা খাবার জোটেনি আজ। ঘরে আটা নেই, ময়দা নেই, কিচ্ছু নেই।"
প্রতিবেশীরা জানান, প্রায় ভেঙে পড়া বোগোপাড়ার এই বাড়িতে একাই থাকেন রানু। তবে অনেক মানুষ স্রেফ বাড়ি খুঁজে দেখতে চলে আসেন তাঁকে। কখনও সখনও স্থানীয় মঞ্চে তাঁকে গান গাইতেও ডেকে নিয়ে যান কেউ। কিন্তু গায়িকার সম্মান তবুও অধরাই থেকে যায়। খ্রিস্টমাসের আলোতেও তাই অন্ধকারেই থেকে গেলেন রানাঘাটে রানু মণ্ডল।