
নৌকা বেয়ে নিয়ে আসেন গঙ্গাজল
শেষ আপডেট: 28 November 2024 15:42
কাজল বসাক, নদিয়া
চূর্ণী নদীর পারে বাস। পেশা কিন্তু গঙ্গার জল বিক্রি করা। তিন প্রজন্ম ধরে গঙ্গার জল বিক্রি করেই পেট চালান রানাঘাটের অশোক হালদার।
হিন্দুশাস্ত্র মতে, যে কোনও পবিত্র কাজে দরকার গঙ্গার জল। কিন্তু রানাঘাট শহর থেকে সেই গঙ্গা যে অনেক দূরে। তাই শহরের মানুষকে নগদ পয়সায় কিনতে হয় গঙ্গার জল। আর এক্ষেত্রে তাঁদের ভরসা ছোট বাজারের অশোক হালদার।
চূর্ণির ধারে ছোট বাজার। আর সেই বাজারের ভিতর ফুটপাতে ত্রিপলের আচ্ছাদনে তৈরি অশোকের ছোট্ট দোকান। বাপ-ঠাকুরদার আমল থেকেই একটা নৌকা রয়েছে তাঁর। সেই নৌকা বেয়ে তিনি যান ১৩ কিলোমিটার দূরে গঙ্গায়। একলপ্তে ড্রামে করে ৪ হাজার লিটার গঙ্গাজল নিয়ে আসেন। তারপর রানাঘাটের বাজারে বিক্রি করেন সেই জল। এক লিটার জলের দাম ৪ টাকা। পাইকারি রেটে কেউ কিনলে লিটার পিছু দাম পড়ে ২ টাকা।
৫০ বছর ধরে হালদার পরিবারের সংসার চলে গঙ্গার জল বিক্রি করে। এর আগে ঠাকুরদা নন্দলাল হালদার পরে বাবা মোহন চন্দ্র হালদার চূর্ণী বেয়ে নিয়ে আসতেন গঙ্গার জল। এখন আনেন অশোক। পাশে দাঁড়িয়েছেন ছেলে রাজা হালদার। অশোক বললেন, "আগে গঙ্গায় বালতি ডুবিয়ে জল তুলতাম। এখন একটা পাম্প কিনেছি। সেই পাম্প দিয়ে জল তুলে ড্রামে ভরে নৌকা নিয়ে ফিরে আসি। এরপর এখানেও মোটরেই সেই জল ওপরে তুলে নেই। আগের মতো আর টানাটানির কষ্ট নেই।"
সকাল সাতটা থেকে রাত্রি ন'টা পর্যন্ত খোলা থাকে অশোকের গঙ্গা জলের দোকান। শুধু রানাঘাট শহর নয়, পার্শ্ববর্তী মানুষও এখানে আসেন গঙ্গার জল কিনতে। অশোকবাবু বলেন, "১২ মাস কমবেশি জল বিক্রি হয়। কোনও পুজো এলে বেড়ে যায় বেচাকেনা।"