
শেষ আপডেট: 12 April 2025 20:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো, মুর্শিদাবাদ: সামশেরগঞ্জ ও সুতির রাস্তায় বিএসএফকে দেখে নিরাপত্তার দাবিতে ছুটে এলেন গ্রামের মানুষ। বিএসএফের কাছে হাতজোড় করে নিরাপত্তার আর্জি করতে দেখা গেল গ্রামবাসীদের। মূলত: জাফরাবাদ, লক্ষ্মীমন্দির-সহ সামশেরগঞ্জের একাধিক অংশ এখন তপ্ত হয়ে রয়েছে। এরইমধ্যে জাফরাবাদে বাবা ও ছেলেকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে।
বিএসএফ জওয়ানদের কাছে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন সামশেরগঞ্জের এক বাসিন্দা। তীব্র আতঙ্কের মধ্যে তিনি বলছেন, "বাজারে আমার মিষ্টির দোকান রয়েছে। কিছু লোক বাইরে থেকে এসে আমার দোকানে আক্রমণ করে। লুঠপাঠ চালায়। বাড়িতেও ভাঙচুর করে। রাত থেকেই আমরা তীব্র আতঙ্কে রয়েছি। আমাদের বাড়ির লোকেরা ঝাড়খণ্ডে এক বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে।"
এলাকার কিছু মহিলা বলেন, “দরজা পুরো ভেঙে ফেলেছে। পাথর ছু়ড়েছে।” কাঁদতে কাঁদতে আর এক মহিলা বলেন, “আমাদের দোকান পুরো ভেঙে ফেলেছে। আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। কিচ্ছু বাঁচেনি। কী খাব এবার আমরা?” গ্রামবাসীদের অনেকেই তখন বলছেন, “আমরা একদম নিরাপদ নই। আমাদের নিরাপত্তা দিন। কিছু তো করুন!”
রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় একের পর এক অশান্তির ঘটনায় লাগাম টানতে কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। জরুরি ভিত্তিতে হওয়া সেই মামলায় মুর্শিদাবাদে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। সঙ্গে এও বলা হয়েছে পরিস্থিতি বুঝে অন্য জেলাতেও বাহিনী পাঠানো যাবে।
শুভেন্দুর করা মামলায় শনিবার বিচারপতি সৌমেন সেন ও বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর স্পেশ্যাল বেঞ্চ জানিয়েছে, "মুর্শিদাবাদে সম্প্রীতি ফেরানোই এখন একমাত্র লক্ষ্য। এহেন পরিস্থিতিতে আদালত চোখ বন্ধ করে রাখতে পারে না।" রাজ্য এবং শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবীদের সওয়াল-জবাবের পর বিচারপতি সৌমেন সেনের বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, মুর্শিদাবাদে শান্তি রক্ষায় পুলিশের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনী একসঙ্গে কাজ করবে। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ইতিমধ্যেই মুর্শিদাবাদ পৌঁছেছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীবকুমার।