
থমথমে মুর্শিদাবাদে রুটমার্চ।
শেষ আপডেট: 13 April 2025 11:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংশোধিত ওয়াকফ আইন নিয়ে উত্তাল পরিস্থিতির জেরে এখনও থমথমে মুর্শিদাবাদের একাধিক অঞ্চল। হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে শনিবার রাত থেকে জেলায় মোতায়েন হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। শামসেরগঞ্জ ও সুতি থানার অন্তর্গত ৯টি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চলছে কড়া টহলদারি। সঙ্গে রুটমার্চে রয়েছে রাজ্য পুলিশও।
শনিবার রাত ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই তৎপরতা সারা রাত ধরে চলে। পুলিশ বিভিন্ন গ্রামে চালায় তল্লাশি অভিযান। কেন্দ্রীয় বাহিনীও পথে পথে ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে। সূত্র অনুযায়ী, রাতভর অভিযানে জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার বিভিন্ন অংশ থেকে হিংসায় জড়িত সন্দেহে অন্তত ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জেলার মোট গ্রেফতারির সংখ্যা ১৩৮ ছাড়িয়েছে।
রবিবার সকালেও থেমে থাকেনি সতর্কতা। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী যৌথভাবে রুটমার্চ করছে স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে। পাশাপাশি, আজ সুতি থানায় আয়োজিত হতে পারে শান্তি বৈঠক। প্রশাসন চাইছে, সমস্ত সংগঠনের নেতৃত্বদের সঙ্গে আলোচনায় বসে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা হোক।
অশান্তির আশঙ্কায় শনিবার রাত থেকেই অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন। একইসঙ্গে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে জেলার দুই প্রবেশপথ— নদিয়ার সীমান্ত ও মালদহ থেকে গঙ্গা পথ ধরে আসা অঞ্চলগুলিতে। মেটাল ডিটেক্টর বসিয়ে চলছে জেরা, বহিরাগতদের গতিবিধির উপর রাখা হয়েছে কড়া নজর। গঙ্গা পথেও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
রবিবার সকালে 'ওয়াকফ বিরোধী একতা মঞ্চ'-এর দুটি প্রতিবাদ কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে প্রশাসনের অনুরোধে। প্রশাসন চাইছে, সংঘাত না বাড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছনো হোক।
শনিবার সন্ধ্যায় জেলার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় মুর্শিদাবাদে আসেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার। জেলা আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি, বিএসএফ কর্তৃপক্ষ ও কেন্দ্রের শীর্ষ আমলাদের সঙ্গেও ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নেন তিনি। মুর্শিদাবাদে অবস্থান করছেন এডিজি বিনীত গোয়েল এবং সিদ্ধিনাথ সহ রাজ্য পুলিশের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্তা। পাশাপাশি, আরও পাঁচ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী ঝাড়খণ্ড থেকে আনা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
অঞ্চলে এখনও আতঙ্ক ছড়িয়ে রয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, তাঁর বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, “আমার বাড়ি ভাঙচুর হয়েছে, বাড়ির সামনে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিবারের লোকজন নিরাপত্তার খোঁজে অন্যত্র চলে গিয়েছেন, তবে আমি এখানেই থাকব।”
এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে প্রশাসনের মূল লক্ষ্য— শান্তি ফেরানো এবং জেলাবাসীর আস্থা ফিরিয়ে আনা।