
লটারি টিকিট বিক্রেতা অসীম দত্ত
শেষ আপডেট: 25 November 2024 12:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া: বেঁচে যাওয়া লটারির টিকিট অফিসে জমা না দিয়ে নিজের কাছেই রেখে দিয়েছিলেন। সেই টিকিটেই আসল এক কোটি টাকা। পুরস্কার পেয়েই জোড়া কালীর পুজো দিলেন লটারির টিকিট বিক্রেতা অসীম দত্ত।
তাঁর কঠিন অসুখ হয়েছিল। নিরাময় হলে ধুমধাম করে কালী পুজো দেবেন, মানত করেছিলেন তার মা। কিন্তু রোগমুক্তি হলেও অর্থের অভাবে সেই পুজো দেওয়া আর হয়ে ওঠেনি। আসলে সংসারে যে নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। এভাবেই কেটে গিয়েছে দীর্ঘ বেশ কয়েক বছর। এরই মধ্যে মায়ের মৃত্যু হয়, কোনও মতে মায়ের পারলৌকিক ক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে পারলেও মা-কালীর পুজো আর দেওয়া হয়ে ওঠেনি। তাই মনে একটা কষ্ট ছিলই।
অবশেষে ২৭শে অক্টোবর আসলো শুভ দিন। সমস্ত টিকিট বিক্রি হয়ে গেলেও অবিক্রিত টিকিট থেকে গেছিল বেশ কিছু। অন্য সময় সেগুলি কোম্পানিতে ফেরত পাঠান অসীম। কিন্তু এ যাত্রায় সেগুলি না পাঠিয়ে রেখে দেন নিজের কাছে। সেই অবিক্রিত টিকিটের একটাতেই কোটি টাকা পুরস্কার জিতলেন তিনি। টাকা হাতে পেয়ে তেহট্ট থানার নাজিরপুর বাঘাডোবা গ্রামে নিজের বাড়িতে ১০৮ টি ঢাক বাজিয়ে ধুমধাম করে কালী পুজো দিলেন লটারি বিক্রেতা অসীম দত্ত। আমন্ত্রিত হয়ে এসেছিলেন কয়েকশো অতিথি।
অসীম বাবু জানান, বেশ কয়েক বছর আগে তিনি খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। রোগের চিকিৎসা করতে তাঁর মায়ের অনেক টাকা খরচ হয়ে গিয়েছিল। আর টাকা খরচ করার মত সামর্থ্য ছিল না। তখন মা কালীর কাছে তাঁর মা মানত করেছিলেন ছেলে সুস্থ হলে ধুমধাম করে কালীপুজো দেবেন। তিনি বলেন, "এই মানত করার কিছুদিনের মধ্যেই আমি সুস্থ হয়ে উঠি, কিন্তু আর্থিক অনটনের কারণে সেই পুজো আর দেওয়া হয়ে ওঠেনি। এরমধ্যে মায়ের মৃত্যু হয়। আজকের দিনে মা বেঁচে থাকলে সবচাইতে বেশি খুশি হতেন।"
নাজিরপুর বাজার এলাকায় প্রত্যেক দিন লটারি টিকিট বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন অসীম। ২৭ শে অক্টোবর রাত ৮টার খেলার ১৫০ টাকার অবিক্রিত টিকিট নম্বরে এক কোটি টাকার প্রথম পুরস্কার ওঠে। লটারিতে ১ কোটি টাকা মিললেও জীবনযাত্রায় অবশ্য কোনও পরিবর্তন আসেনি অসীমের। এখনও সকাল হলেই তিনি চলে আসেন নাজিরপুর বাজারে নিজের দোকানে। সেখানেই কাটে দিন। এখনও সংসার চালাচ্ছেন লটারি বিক্রির টাকায়। তবে একথাও বললেন, "অর্থের অভাবে মা মানত করে পুজো দিতে পারেননি। তবে মা কালী আমার দিকে মুখ তুলে তাকিয়েছেন। তাই প্রত্যেক বছর মাকে এভাবে ধুমধাম করে পুজো দেব।"