
ঘটনাস্থলের ছবি
শেষ আপডেট: 25 October 2024 21:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া: কৃষ্ণনগরে ছাত্রীর পোড়া দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। অভিযুক্ত রাহুলের বসুর বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই আরও এক তরুণীর নাম উঠে আসছে। রাহুল ওই তরুণীকেও বিয়ে করেছিল। ছাত্রীর মৃত্যুর দিন রাহুলের বন্ধু সৌরভের সঙ্গে ওই তরুণীর ফোনে কথা হয়েছিল বলে সূত্রে খবর।
পুলিশের এক সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত রাহুলের সঙ্গে একাধিক তরুণীর ঘনিষ্ঠতা ছিল। তাঁদের মধ্যে একজন ছিল নিহত স্কুল ছাত্রী। রাহুল বেঙ্গালুরুতে হোটেলে কাজ করত। বাড়িতে কিছু না জানিয়ে ওই ছাত্রীও রাহুলের কাছে চলে যায়। ১৫দিন বাদে মেয়ে বেঙ্গালুরুতে আছে বলে জানতে পারে ছাত্রীর পরিবার। তারা সেখানে গিয়ে মেয়েকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে আনে। এরপরেই সোশ্যাল মিডিয়ার রাহুলকে স্বামী হিসাবে পরিচয় দেয় ওই ছাত্রী।
এদিকে সোনারপুরের এক তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছিল রাহুল। এমনকী তাঁকে সিঁদুরও পড়ায়। পুজোর ছুটিতে বাড়ি ফিরে অন্য এক তরুণীর সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা হয় অভিযুক্তের। ঘটনার দিন সেই তরুণীর সঙ্গেই রানাঘাটে সিনেমা দেখতে গিয়েছিল রাহুল।
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ঘটনার দিন ছাত্রী তার এক বন্ধুকে ফোনে জানিয়েছিল যে সে আত্মঘাতী হতে চলেছে। রাহুলকে ২১ বার ফোন করেছিলেন ওই ছাত্রী। বিকেল ৪টে নাগাদ ফোন করে বন্ধুকে জানান, কোরোসিন কিনেছে সে। সেকথাই ওই বন্ধু রাহুলকে ফোন করে জানায়। ঘটনার দিন ১০টা ১২ মিনিটে ওই বন্ধুর ফোনে ছাত্রীর সঙ্গে রাহুলের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা হয়েছিল। তখনই রাহুল ছাত্রীকে সম্পর্ক শেষে করার কথা বলে। তার পরেই ছাত্রীর দগ্ধ দেহ উদ্ধার হয়। যদিও রাহুলের মা জানিয়েছেন, ছেলে বিবাহিত নয়।
পুলিশের দাবি, রাহুল বসু জেরায় স্বীকার করছে, আরোহী নামে মেয়েটির সঙ্গে তাঁর প্রেম ছিল। অনুষ্ঠান করে বিয়ে না-করলেও তাঁরা নিজেরা বিয়ে করেছিলেন বলে দাবি অভিযুক্তর।
কৃষ্ণনগরের ছাত্রীর মৃত্যুর পর প্রায় ৯দিন পেরিয়ে গেছে হতে চলল। ময়নাতদন্তে স্পষ্ট হয়নি যে তাকে খুন করা হয়েছে না কি, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এখনও পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ঠিক এর মধ্যেই আবারও নতুন তথ্য উঠে এল।