
গুড়ের ব্য়াপারি ইউনুস ও রফিকুল
শেষ আপডেট: 17 December 2024 12:51
মামিনুল ইসলাম,মুর্শিদাবাদ
শীত পড়তেই কদর বাড়ে রাস্তার ধারে অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকা খেজুর গাছের। গাছ থেকে রস সংগ্রহ আর তারপর সেই রস থেকে গুড় তৈরির পালা চলে গোটা রাজ্যেই। কিন্তু হরিহরপাড়ার ইউনুস আর রফিকুলের গুড় কিন্তু এক্সক্লুসিভ। কেন বলছি জানেন। আসলে দিনভর পরিশ্রমের গুড় ওরা কিন্তু বাইরে বিক্রি করেন না। ওদের গুড় কেনেন কেবলমাত্র রসিকজনেরা। তাদের কেউ বহরমপুরে তো কেউ বার্লিনে। কেউ হয়তো বসে আছেন আমেরিকায় আবার কেউ কলকাতায়।
মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়া থানার রমনা এলাকায় ঈদগাহ ময়দান থেকে মাঠের রাস্তায় গেলেও দেখা মিলবে দু'পাশে সারি সারি খেজুর গাছ। সেই গাছকে পরিচর্যা করে খেজুরের রস ও গুড় তৈরি করে লাভবান হচ্ছেন রমনার নতুন পাড়ার ইউনুস আলি ও রফিকুল ইসলাম। আগে এই গ্রামে আটজন গাছি খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করতেন। প্রচুর পরিশ্রম ও জ্বালানি খরচের জন্য এখন আর তাদের দেখা মেলে না। এই গ্রামে এখন মাত্র দুজনই গুড় তৈরি করেন। ইউনুস আর রফিকুল। সারারাত খেজুরগাছে পাত্র ঝুলিয়ে রাখেন তাঁরা। ভোর হতেই শুরু হয় গুড় তৈরির কর্মকাণ্ড। গাছ থেকে রস নামিয়ে সেই রস জ্বাল দিয়ে শুরু হয় গুড় তৈরির মহাপর্ব।
ইউনুস জানালেন, আগের সন্ধ্যায় খেজুর গাছে হাঁড়ি বা প্লাস্টিকের জার ঝুলিয়ে রেখে আসেন তাঁরা। পরের দিন ভোরবেলা সেই রসের পাত্র নামিয়ে এনে আগুন জ্বালিয়ে গুড় জ্বাল দিতে বসেন। রস জ্বাল দিতে কাটে সারা সকাল। এই পরিশ্রমের পর যে গুড় তাঁরা তৈরি করেন তা বিক্রি করতে কিন্তু বিশেষ পরিশ্রম নেই। দূর দূরান্ত থেকে মানুষ নিজেরাই চলে আসেন গুড়ের খোঁজে। এমনই তাঁদের গুড়ের সুনাম।
রফিকুল জানান, বহরমপুরের একজন তাঁর গুড় পাঠিয়েছিলেন কলকাতায় এক আত্মীয়কে। তিনি আবার সেই গুড় পাঠান আমেরিকায় তাঁর মেয়ের বাড়ি। তাঁরা আবার সেখানে খাইয়েছেন অনেককে। প্রতিবছর অনেকটা গুড় তাঁরাই নিয়ে নেন। এছাড়াও আছে এমনই কয়েকজন বাঁধা ক্রেতা।
গত বছর ১৫০ টাকা কেজি করে বিক্রি করলেও এ বছর জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রতি কেজি ঝোলা গুড় ২০০ টাকা, আর গুড়ের পাটালি প্রতি কেজি ৩০০ টাকা দরে বিক্রয় করছেন তারা। এখনও সবে শীতের শুরু, তাই রস মিলছে কম। যত দিন যাবে ততই রসের জোগানও বাড়বে। সেদিকেই এখন তাকিয়ে গুড়ের ব্য়াপারি ইউনুস আর রফিকুল।