রানাঘাটের রুম্পা দাস ও সুব্রত ঘোষ ২০২৫ সালে প্রথমবার এভারেস্ট জয় করলেন। তবে শৃঙ্গ ছুঁয়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন রুম্পা। চলছে উদ্ধার।

রুম্পা দাস।
শেষ আপডেট: 16 May 2025 08:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আবারও বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে বাঙালির পদচিহ্ন। ২০২৫ সালে এভারেস্টে পা রাখলেন দুই বঙ্গসন্তান। রানাঘাটের রুম্পা দাস ও সুব্রত ঘোষ। তাঁদের এই সাফল্যে গর্বে উজ্জ্বল গোটা বাংলা। কিন্তু এই সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতেই ছায়া নামল উদ্বেগের। কারণ, চূড়ায় পৌঁছেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন রুম্পা। বর্তমানে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক, চলছে তাঁকে দ্রুত নামিয়ে আনার কাজ।
সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার দুপুরে এভারেস্টের শৃঙ্গে পা রাখেন রুম্পা ও সুব্রত। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর তাঁরা সামিট করেন এই কঠিন পর্বত। কিন্তু তারপরই হঠাৎ শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েন রুম্পা। অসুস্থতা এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, তাঁকে তৎক্ষণাৎ নীচে নামিয়ে আনার চেষ্টা শুরু হয়। তবে দুর্গম এলাকা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
এই অভিযানে তাঁদের সঙ্গে ছিলেন ফিলিপিন্সের অভিযাত্রী ফিলিপ সেন্টিগো। দুঃখজনকভাবে, বৃহস্পতিবার সকালেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
রুম্পার জন্য এটি ছিল দ্বিতীয়বারের এভারেস্ট অভিযান। এর আগে ২০২১ সালে কৃষ্ণনগরের ‘ম্যাক’ (Mountaineers’ Association of Krishnagar)-এর সদস্য হিসেবে তিনি অংশ নিয়েছিলেন এভারেস্ট অভিযানে। সেবারও মাঝপথে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁকে ফিরে আসতে হয়। সেবার তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
তিন বছর পর, আরও প্রস্তুতি নিয়ে ২০২৫ সালে আবার অভিযান শুরু করেন রুম্পা। সফলভাবে শৃঙ্গ স্পর্শ করলেও ফের তাঁকে অসুস্থতার কবলে পড়তে হল। তাঁকে নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। উদ্ধারকারী দল যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রুম্পাকে নিরাপদে নামিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে।
২০২২ সালে পিয়ালি বসাক সর্বশেষ বাঙালি হিসেবে এভারেস্ট শৃঙ্গ জয় করেছিলেন। এরপর তিন বছর কেটে গেলেও কোনও বাঙালি এভারেস্টে ওঠেননি। সেই শূন্যস্থান পূরণ করলেন রুম্পা ও সুব্রত।
বাংলার দুই পর্বতারোহীর এই অসাধারণ সাফল্য ও সংকটময় পরিস্থিতি ঘিরে নজর রয়েছে গোটা দেশের। সকলেই প্রার্থনা করছেন, যাতে রুম্পা নিরাপদে ফিরে আসেন, আর এই অভিযান হয়ে ওঠে সত্যিকারের বিজয়ের প্রতীক।