
শেষ আপডেট: 16 February 2024 19:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া: জমি বিবাদের জেরে এক মহিলা আইনজীবীকে মারধর করে তাঁর বসতবাড়ির একাংশ ও গ্যারেজ বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠল। রেয়াত করা হয়নি তাঁর বৃদ্ধা মাকেও। এই ঘটনায় নাম জড়িয়েছে স্থানীয় কয়েকজন তৃণমূল কর্মীর। জানাজানি হতেই আলোড়ন পড়েছে শান্তিপুরের গোঁসাইপাড়ায়।
গোঁসাইপাড়ার বাসিন্দা ওই আইনজীবীর অভিযোগ, গত ১১ ফেব্রুয়ারি রবিবার সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ তাঁর বসত বাড়ির একাংশ এবং একটি সাইকেল গ্যারেজ বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়। বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা তাঁকে ও তাঁর ষাটোর্ধ্ব মাকে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করে। প্রমাণ লোপাট করতে ভেঙে দেওয়া হয় বাড়ির চারিধারে লাগানো সিসি ক্যামেরা। তিনি জানান, পরদিন অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি সোমবার শান্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তারপর থেকেই প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে তাঁদের। তাই বাধ্য হয়ে বৃহস্পতিবার ফের শান্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, "২০১৮ সালে আমার বাবা চিকিৎসক সুভাষরঞ্জন দাসের মৃত্যুর পর থেকে এলাকায় জমি বাড়ি কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত এমন বেশ কয়েকজন আমাদের জমি দখলের জন্য চেষ্টা চালায়। এদের মধ্যে অনেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী। ২০২৩ সালে তাদের বিরুদ্ধে শান্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়। গত ১১ ফেব্রুয়ারি রবিবার ওরাই বুলডোজার নিয়ে বসতবাড়ির একটি অংশ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। আমি পেশায় আইনজীবী হয়েও এইভাবে আক্রান্ত হতে হলো। তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?"
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদের পক্ষে অমিত ঘোষ দাবি করেন, ওই আইনজীবীর দাবি একেবারেই মিথ্যে। তিনি বলেন, "কেউ ওদের মারধর করেনি। আমার কাছে জমির বৈধ কাগজ থাকা সত্ত্বেও কিছুতেই জমির দখল ছাড়ছেন না ওই মহিলা। বারবার আদালতে যাওয়ার কথা বললেও রাজি হচ্ছেন না। নিজের জমির দখল নিতেই বাড়ি ভাঙা হয়েছে।" তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক তপন সরকার বলেন, "এমন একটা ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি। মারামারিও হয়েছে। ওখানে তৃণমূল গিয়েছিল না বিজেপি গিয়েছিল, তা প্রোমোটারের লোক করেছে তা আমার জানা নেই। যা হয়েছে তা নিন্দনীয়। যেই অন্যায় করুক আইনের চোখে সে দোষী। তার সাজাও হবে। তৃণমূলের লোক হলেও আইন তাকে সাজা দেবে।" শান্তিপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে গোটা বিষয় নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি।