
শেষ আপডেট: 14 April 2024 15:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সারা শরীরে দগদগে ক্ষত, মেঝেতে চাপ চাপ রক্ত! পয়লা বৈশাখের সকালে মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী রইল বরানগর। একই বাড়ি থেকে উদ্ধার হল তিন জনের পচা দেহ। বরানগরের নীরঞ্জন সেন নগরে একই পরিবারে তিন জনের রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, রবিবার সকালে সংশ্লিষ্ট বাড়ির চারপাশ থেকে দুর্গন্ধ পান প্রতিবেশীরা। দ্রুত বরানগর থানার পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙে দেখে, তিন জনের মৃতদেহ রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে রয়েছে।
পুলিশ সূত্রের খবর, একটি ঘরে এক যুবকের রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পাশের ঘরে ছিল এক বৃদ্ধ ও আরেক যুবকের দেহ। জানা যায়, তারা সম্পর্কে দাদু ও নাতি। আর অন্য ঘরে উদ্ধার হওয়া আর একটি দেহ বৃদ্ধের ছেলের বলে জানা গেছে। একই বাড়ি থেকে তিন প্রজন্মের দেহ উদ্ধার হয়েছে। মৃত বৃদ্ধের নাম শংকর হালদার। তাঁর বয়স আনুমানিক ৭০ বছর। তাঁর ছেলে বাপ্পা হালদার ও নাতি বর্ণ হালদার। সকলেরই গলায়, ঘাড়ে এবং পিঠে ধারাল অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। বৃদ্ধ বাবা ও ছেলেকে নিয়ে ওই বাড়িতে থাকতেন বাপ্পা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার থেকে ওই বাড়ির দরজা বন্ধ ছিল। তিনজনের মধ্যে কাউকেই বাড়ির বাইরে তেমন দেখা যায়নি। শনিবার থেকে বাড়িটির চারপাশ থেকে পচা গন্ধ বের হওয়ায় সন্দেহ দানা বাঁধে। রবিবার সকালে প্রাথমিকভাবে প্রতিবেশীরা বাড়ির গেট খোলার চেষ্টা করেন। পরে থানায় খবর দেওয়া হয়। এরপর পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ঘরের ভিতর থেকে তিনটি দেহ উদ্ধার করে।
বাবা ও ছেলেকে খুন করে বাপ্পা আত্মঘাতী হয়েছেন বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। কিন্তু সেক্ষেত্রে তাঁর মাথার পিছনে কীভাবে আঘাত রয়েছে, সেই প্রশ্নও ভাবাচ্ছে পুলিশ কর্তাদের। তাহলে এটি খুন না আত্মহত্যা, তদন্তে নেমেছে বরানগর থানার পুলিশ। এদিন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান বরানগরের সিপিআইএম প্রার্থী তন্ময় ভট্টাচার্য, স্থানীয় কাউন্সিলর উষা বেরা।