দ্য ওয়াল ব্যুরো : লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চিনের সংঘর্ষের পরে সোমবার আলোচনায় বসেছিল দুই দেশের সেনাবাহিনী। একটি সূত্রে খবর, দুই তরফের সেনাকর্তারাই একমত হয়েছেন যে, ভবিষ্যতে সংঘর্ষ এড়িয়ে চলবেন। গালওয়ান উপত্যকা এবং আরও যে সব এলাকায় সীমান্ত নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে, সেখানে কীভাবে সংঘর্ষ এড়ানো যায়, তা নিয়ে উভয় তরফে কথা হয়েছে। দুই দেশের সেনাকর্তারাই গঠনমূলক প্রস্তাব দিয়েছেন। ইতিবাচক ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। আগামী দিনে উভয় পক্ষই আলোচনায় গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত করবে।
চিন সীমান্তের ওপারে চুশুল অঞ্চলের মলডো এলাকায় দুই পক্ষের লেফটেন্যান্ট জেনারেলরা আলোচনায় বসেন। এর আগে ৬ জুন উভয় দেশের সেনাকর্তারা বৈঠকে বসেছিলেন। সেবারও সীমান্তে উত্তেজনা কমানো নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তারপর চিনারা সেনা সরিয়ে নেয়। ভারতও সেনাবাহিনীকে সরিয়ে আনে।
১৫ জুন রাতে দুই তরফের সেনা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ১৯৬৭ সালের পরে দুই দেশের মধ্যে এত বড় সংঘর্ষ কখনও হয়নি। সেদিন ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হন। আহত হন ৭৬ জন। চিনারা কাঁটা লাগানো রড ও পাথর নিয়ে ভারতীয়দের ওপরে হামলা চালায়। সেনা সূত্রে খবর, চিনেরও ৪৫ জন হতাহত হয়েছে।
একটি সূত্রে জানা যায়, ভারত লাদাখে একটি রাস্তা তৈরি শুরু করার পরেই চিন সীমান্তে উত্তেজনা দেখা দেয়। গত কয়েক মাস ধরে চিন সীমান্তে রাস্তা ও বিমানঘাঁটি বানানোর ওপরে জোর দিয়েছে ভারত। চিন সীমান্তের ওপারে পরিকাঠামো যথেষ্ট উন্নত। ভারত তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পরিকাঠামো বানানো শুরু করতেই চিনারা ক্ষুব্ধ হয়।
সম্প্রতি চিন সীমান্তের কাছে দারবুক থেকে দৌলত বেগ ওল্ডি পর্যন্ত একটি ফিডার রোড তৈরি করেছে ভারত। এর ফলে গালওয়ান উপত্যকায় যাতায়াতের সুবিধা হয়েছে। ওই অঞ্চলে আরও কয়েকটি রাস্তা বানানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বর্ডার ম্যানেজমেন্ট দফতরের এক উচ্চপদস্থ অফিসার বলেন, ওই অঞ্চলে আরও ৩২ টি রাস্তা তৈরির কথা আছে। ২০১৯ সালের মধ্যেই রাস্তাগুলি তৈরি হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা কারণে দেরি হয়েছে। দ্রুত রাস্তাগুলি তৈরি করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আগামী দিনে লাদাখ, অরুণাচল প্রদেশ, সিকিম ও উত্তরাখণ্ডে খুব দ্রুত দু'টি রাস্তা তৈরি করা হবে বলে জানানো হয়েছে।