দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর হর্ষবর্ধন কিছুদিন আগেই বলেছিলেন করোনার টিকা কারা আগে পাবে সেই নিয়ে গাইডলাইন তৈরি হয়ে যাবে অক্টোবরের মধ্যেই। সেই সঙ্গেই টিকার সংরক্ষণ ও বিতরণের কর্মসূচীও ঠিক করতে হবে রাজ্যগুলিকে। তবে শুধু অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নয়, গুরুত্ব বুঝেই টিকার বিতরণ করা উচিত বলে মনে করছেন ভেলোরের ক্রিশ্চিয়ান মেডিক্যাল কলেজের মাইক্রোবায়োলজিস্ট ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) গ্লোবাল অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য গগনদীপ কাং।
রোটাভাইরাস ভ্যাকসিনের গবেষণায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল বিজ্ঞানী গগনদীপের। বলেছেন, চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, প্রবীণ ব্যক্তিদের যেমন টিকার দরকার সবচেয়ে বেশি। তেমনি কোমর্বিডিটি রয়েছে যাঁদের শরীরে তাঁদেরও আগে টিকা দেওয়া উচিত। প্রবীণরা বলে শুধু নয়, কমবয়সীদেরও টিকার দরকার রয়েছে। কে কেমন পেশার সঙ্গে যুক্ত, লোকজনের সঙ্গে মেলামেশার ধরন ইত্যাদি গুরুত্ব বুঝেই টিকার সঠিক বিতরণ করতে হবে।
করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির হার কমানোই লক্ষ্য দেশের। ভাইরাস যাতে বেশিজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সে চেষ্টাই করতে হবে। তাই এমন লোকজনকে আগে টিকা দিতে হবে যাদের থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। বেশি মানুষজনের সঙ্গে মেলামেশা করতে হয় যাদের, টিকার প্রয়োজনীয়তা তাদেরই সবচেয়ে বেশি। এখানে কোনও রকম স্বার্থ বা উদ্দেশ্য না দেখেই টিকা দিতে হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন বলেছিলেন, একুশের গোড়াতেই করোনার ভ্যাকসিন চলে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ৪০ থেকে ৫০ কোটি ভ্যাকসিনের ডোজ দেশের বিতরণ করা হবে। জুলাই মাসের মধ্যে দেশের অন্তত ২৫ কোটি মানুষকে টিকা দেওয়া সম্ভব হবে।
করোনা টিকার সংরক্ষণের জন্য উপযুক্ত কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে সব রাজ্যগুলিকেই। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রকের যুগ্মসচিব ডক্টর মনোহর আগনানি বলেছেন, হিমাঙ্কের নীচের তাপমাত্রায় টিকা সংরক্ষণ করার পরিকাঠামো এখন থেকেই তৈরি করতে হবে। টিকা বিতরণের কর্মসূচীও স্থির করা দরকার। ১৫ অক্টোবরের মধ্যেই রাজ্যগুলিকে সমস্ত পরিকল্পনা সেরে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দেশে এখন করোনার ভ্যাকসিন দৌড়ে এগিয়ে আছে ভারত বায়োটেক, জাইদাস ক্যাডিলা ও সেরাম ইনস্টিটিউট। এর মধ্যে সেরাম অক্সফোর্ডের ফর্মুলায় তৈরি তাদের কোভিশিল্ড টিকার তৃতীয় স্তরের ট্রায়াল শুরু করে দিয়েছে। পুণে, মুম্বইতে কোভিশিল্ড টিকার ট্রায়াল চলছে। ভারত বায়োটেকের টিকা কোভ্যাক্সিন পশুদের শরীরের বলিষ্ঠ রোগ প্রতিরোধ তৈরি করেছে বলে দাবি করেছেন ভাইরোলজিস্টরা। রেসাস প্রজাতির বাঁদরের শরীরে এই টিকার ডোজে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে বলেই দাবি। সেই সঙ্গে সক্রিয় হয়েছে টি-কোষও। কোভ্যাক্সিনের সেফটি ট্রায়ালের রিপোর্টও বেশ ভাল। ডক্টর মনোহর বলছেন, টিকার ডোজ চলে এলে কম তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হবে। সব ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির টিকার ফর্মুলা এক নয়। তাই টিকার ভায়াল কতদিন কোল্ড স্টোরেজে রাখতে হবে, কত তাড়াতাড়ি বিতরণ করতে হবে, তার একটা গাইডলাইন তৈরি করা প্রয়োজন।
ভাইরাল স্ট্রেন নিষ্ক্রিয় করে বা ভেক্টর ভাইরাসের সঙ্গে মিলিয়ে টিকা তৈরি হচ্ছে। কাজেই ভাইরাল স্ট্রেন তাজা রাখতে টিকার তরলকে প্রচণ্ড ঠান্ডায় সংরক্ষণ করতেই হবে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, যদি কোনও ভায়ালের ডোজ ব্যবহার করা না হয়, তাহলে সেই সিল করা ভায়াল কম করেও মাইনাস ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখতেহবে। তবে কোন টিকা কী তাপমাত্রায় সংরক্ষিত হবে সেটা নির্ভর করবে টিকার বৈজ্ঞানিক উপাদান ও তার তৈরির পদ্ধতির উপরে। বেশিদিন টিকার ভায়াল কোল্ড স্টোরেজে রাখলে তার ডোজ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাছাড়া একবার ভায়ালের সিল খুললে তাকে ফের রেফ্রিারেটারে ঢোকানো সম্ভব নয়। তাই কী পরিমাণ ডোজ দেওয়া হবে সেটা আগে থেকেই ঠিক করে নেওয়া দরকার।