দ্য ওয়াল ব্যুরো : ভারত একাধিকবার জানিয়ে দিয়েছে, দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার নিয়ে বিদেশিদের মন্তব্য তার অভিপ্রেত নয়। এর পরেও দিল্লিতে কৃষক আন্দোলন নিয়ে মুখ খুললেন মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যরা। ভারত সরকারের কাছে তাঁদের আর্জি, নতুন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে যে কৃষকরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, তাঁদের যেন বাধা না দেওয়া হয়। কৃষকদের শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ দেখানোর অনুমতি দেওয়া হোক।
এর আগে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ত্রুদো ভারতের কৃষক আন্দোলন নিয়ে দু'বার মুখ খুলেছেন। এছাড়া ব্রিটেনের পার্লামেন্টের দুই কক্ষের কয়েকজন সদস্যও কৃষক বিক্ষোভকে কার্যত সমর্থন করেছেন। কৃষক আন্দোলন নিয়ে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপুঞ্জের মুখপাত্র। সোমবার মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য ডাগ লামালফা বলেছেন, "ভারত সরকার ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে কয়েকটি আইন এনেছে। আমি পাঞ্জাবের কৃষকদের আন্দোলন সমর্থন করি।"
রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান লামালফা বলেন, "পাঞ্জাবের কৃষকদের শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ দেখাতে দেওয়া উচিত। তাঁদের যেন হিংসাত্মক পথে মোকাবিলা না করা হয়।" ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস ম্যান জোস হার্ডার বলেন, "ভারত হল বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র। সেদেশে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ দেখানোর অধিকার আছে। ভারতের সাধারণ নাগরিকরা যাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে আলোচনা চালাতে পারেন, আলোচনা যাতে ফলপ্রসূ হয়, সেজন্য আমি উৎসাহ দেব।" অপর কংগ্রেসম্যান টি জে কক্স বলেন, "ভারতে অবশ্যই শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ দেখানোর অধিকার থাকা উচিত। সেজন্য যেন কারও নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়।" অপর কংগ্রেস সদস্য অ্যান্ডি লেভিন বলেছেন, "ভারতের কৃষকদের আন্দোলন দেখে আমি অনুপ্রাণিত হচ্ছি।"
আমেরিকার সংবাদ মাধ্যমেও দিল্লির কৃষক আন্দোলন নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসে বলা হয়েছে, "বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে নয়াদিল্লির বাইরেও। দক্ষিণে কেরল ও কর্নাটক, উত্তর পূর্বে অসমের কৃষকরাও ঝান্ডা নিয়ে মিছিল করছেন। উত্তরপ্রদেশের আখচাষিরা নতুন আইনে তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। কিন্তু আন্দোলনকারীদের সমর্থনে তাঁরাও বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন।"
সিএনএন বলেছে, "হাজার হাজার কৃষক ভারতের রাজধানীতে জড়ো হয়েছেন। নতুন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে তাঁরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। তাঁদের ধারণা, ওই আইনগুলি তাঁদের জীবিকার পক্ষে ক্ষতিকর।"
নতুন কৃষি আইন বাতিল করার দাবিতে মঙ্গলবার বেলা ১১ টা থেকে দুপুর তিনটে পর্যন্ত ভারত বন্ধের ডাক দিয়েছেন কৃষকরা। ফলে কয়েকটি রাজ্যে যানবাহন, অফিস, দোকান-বাজার ও অন্যান্য কাজকর্ম ব্যাহত হতে পারে। বিশেষত ফল ও শাকসবজির বাজার বন্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। দিল্লি ও হরিয়ানা পুলিশ সাধারণ মানুষকে কয়েকটি রাস্তা এড়িয়ে চলতে বলেছে। কারণ সেই রাস্তাগুলিতে কৃষকরা ক্যাম্প করে বসে আছেন। আন্দোলনকারীরা অবশ্য জানিয়েছেন, বন্ধ শান্তিপূর্ণ থাকবে। অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য জরুরি পরিষেবা যাতে সচল থাকে সেদিকে লক্ষ রাখা হবে।