
শেষ আপডেট: 15 May 2023 06:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্নাটকের (Karnataka) পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী বেছে নিতে সোমবার দিল্লিতে কংগ্রেস (Congress) হাইকমান্ড বৈঠকে বসবে। তবে তা আনুষ্ঠানিকভাবে ডাকা বৈঠক নয়। বৈঠকের আগে আলাপ আলোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন তা ঠিক করে নিতে চায় দল। বৈঠকে সিদ্ধান্তটি সর্বসম্মতভাবে পাশ করিয়ে নেওয়া হবে মাত্র। সে জন্য কর্নাটক কংগ্রেসের দুই মুখ তথা মুখ্যমন্ত্রী পদের প্রধান দাবিদার সিদ্দারামাইয়া এবং ডিকে শিবকুমার সোমবার দিল্লি যাচ্ছেন। দু’জনেরই প্রথমে সনিয়া গান্ধীর বাড়িতে যাওয়ার কথা। এরপর কংগ্রেস অফিসে বৈঠক হবে। সেখানে রাহুল এবং প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর হাজির থাকার কথা। সিদ্দারামাইয়া এবং শিবকুমারের মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়া রীতিমতো চিন্তায় ফেলেছে কংগ্রেস নেতৃত্বকে।
এদিকে, কংগ্রেসকে চিন্তায় ফেলেছে মুসলিম সমাজের (Muslim community) প্রবল প্রত্যাশা। ভোটে কংগ্রেস ১৫ আসনে মুসলিম প্রার্থী দিয়েছিল এবার। তাদের নয়জন জয়ী হয়েছেন। তবে সংখ্যালঘুদের বিভিন্ন সংগঠনের দাবি, কর্নাটকে কংগ্রেসের বিপুল জয়ের আসল কারিগর মুসলিমরা। ৭২টি আসনে তারা হাত চিহ্নের প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করেছেন।
কংগ্রেসকে এই বিপুল সমর্থনের এবার প্রতিদান চায় রাজ্যের মুসলিম সমাজ। সংখ্যালঘুদের একাধিক সংগঠনের তরফে সুন্নি উলেমা বোর্ড ও রাজ্য ওয়াকফ বোর্ডের সদস্যরা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের সঙ্গে দেখা করে দাবি করেছেন, মন্ত্রিসভায় একজন মুসলিমকে উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ দিতে হবে। এছাড়াও পাঁচজন মুসলিম বিধায়ককে গুরুত্বপূর্ণ দফতরের মন্ত্রী করতে হবে (demand 6 ministers including deputy chief minister)।
খাড়্গে দাবি নিয়ে কোনও প্রতিশ্রুতি দেননি। তবে কংগ্রেস সূত্রের খবর, ভোটের আগে দলের তরফে মুসলিম বিধায়ককে উপমুখ্যমন্ত্রী করার দাবি মৌখিকভাবে মেনে নেওয়া হয়। তবে মুসলিম সংগঠনগুলি ৩০ কেন্দ্র প্রার্থী করার দাবি জানালেনও কংগ্রেস তা মানেনি কৌশলগত কারণে। ৩০ কেন্দ্রে মুসলিমদের প্রার্থী করলে বিজেপির হিন্দুত্বের তাস আরও জোরদার হত। কংগ্রেস কর্নাটকের প্রচারে ভারসাম্য রক্ষার রাজনীতিও অত্যন্ত কুশলতার সঙ্গে করেছে। এখন অন্য রাজ্যে ভোটের কথা বিবেচনায় রেখেও কংগ্রেস মুসলিম বিধায়ককে উপমুখ্যমন্ত্রী করার ভাবনাচিন্তা মাথায় রেখেই এগচ্ছে। কিন্তু নয় মুসলিম বিধায়কের পাঁচজনকে মন্ত্রী করা হলে বিজেপির মেরুকরণ রাজনীতিতে প্রাণ সঞ্চার হবে বলে মনে করছে দল।
কর্নাটকে কোনও মুসলিম এখনও পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী হননি। তবে বিভিন্ন সময়ে কংগ্রেসের মন্ত্রিসভায় মুসলিম উপমুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। শেষবার এসএম কৃষ্ণর মন্ত্রিসভায় মুসলিম উপমুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও পাঁচজন সংখালঘু সম্প্রদায়ের মন্ত্রী ছিলেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কৃষ্ণ এখন বিজেপিতে। মুসলিম সংগঠনগুলি তাঁর মন্ত্রিসভার পুনরাবৃত্তি চাইছে।
কর্নাটক ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান সাফি শাদি প্রকাশ্যেই দাবি করেছেন, ‘নির্বাচনের আগেই কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে কথা হয়েছিল মন্ত্রিসভায় জনা পাঁচেক মুসলিমকে নেওয়া হবে।’ বিভিন্ন মুসলিম সংগঠনের নেতারাও প্রকাশ্যেই দাবি করতে শুরু করেছেন হাত শিবিরের বিপুল জয়ের পিছনে সংখ্যালঘুদের অবদান সবচেয়ে বেশি। রাজ্য কংগ্রেস নেতারা এই প্রচারে লাগাম দিতে চাইছেন।
মুসলিমদের কত শতাংশের ভোট এবার কংগ্রেসের ঝুলিতে গিয়েছে তার চুলচেরা হিসাব এখনও আসেনি। তবে ফলাফল থেকে স্পষ্ট অনেক আসনেই মুসলিম ভোট কংগ্রেসের বাক্সেই জমা হয়েছিল। বিজেপিকে ভোট দেওয়ার প্রশ্নই ছিল না। কারণ, গেরুয়া শিবিরের বহু নেতা প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন, মুসলিমদের ভোট চাই না। তবে আঞ্চলিক দল জেডিএসের ভাল প্রভাব আছে মুসলিমদের মধ্যে।
সাফি শাদির বক্তব্য, বিজেপি শাসনে কর্নাটকে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সেই অবস্থার পরিবর্তনে যেভাবে সংখ্যালঘু ভোটাররা এককাট্টা হয়ে কংগ্রেসের পাশে দাঁড়িয়েছে তাতে একজন মুসলিমকে মুখ্যমন্ত্রী করাটাই সময়ের দাবি। কিন্তু আমরা সেই দাবি তুলছি না। উপমুখ্যমন্ত্রী এবং পাঁচমন্ত্রীর দাবি সেই তুলনায় সামান্যই। যদিও কংগ্রেস নেতাদের অনেকেই মনে করছেন কৃষ্ণর সরকারের সময়ের তুলনায় এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। বিজেপি এখন প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়ে লোক খেপানোর চেষ্টা করবে। উপমুখ্যমন্ত্রী-সহ ছয়জনকে মন্ত্রী করা হলে মন্ত্রিসভার ভারসাম্য রক্ষা কঠিন হয়ে পড়বে। কারণ এবার জাতের অঙ্কও আরও বেশি করে মাথায় রাখতে হচ্ছে কংগ্রেসকে। ডিকে শিবকুমারের নেতৃত্বে দ্বিতীয় প্রভাবশালী জনগোষ্ঠী ভোক্কালিগাদের বিপুল সমর্থন কংগ্রেসের বাক্সে এসেছে।
বিচ্ছেদ চেয়ে আদালতে গিয়েছিলেন, ১০ বছর পর আদালত মিলিয়ে দিল ষাটোর্ধ্ব দম্পতিকে