
শেষ আপডেট: 7 October 2023 13:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ সামনে আসার পরেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল কলেজ। স্বাধীনতা আন্দোলনের সাক্ষী সেই কলেজেই মিউজিয়াম তৈরি করে উৎসর্গ করা হল দেশের জন্য জীবন দান করা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের।
গঙ্গার ধারে সাবেক ফরাসডাঙা চন্দননগর শহরের একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চন্দননগর কলেজ। ১৮৬২ সালে স্থাপিত হয়েছিল এই কলেজ। প্রথমে নাম ছিল একোল দে সাঁৎ মেরি। ১৯০১ সাল থেকে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে ডুপ্লে কলেজ নামে চিনতেন সবাই। স্বাধীনতার পর ১৯৪৮ সালে নাম পরিবর্তন হয় কলেজের। তারপর থেকেই চন্দননগর কলেজ হিসেবেই এর পরিচিতি।
শুরু থেকেই এটি একটি ব্যতিক্রমী প্রতিষ্ঠান। কলেজের একদা সহ-অধ্যক্ষ চারুচন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে কলেজকে ঘিরে গোটা চন্দননগর শহর বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের আখড়ায় পরিণত হয়েছিল। সরাসরি স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে জড়িত থাকায় ১৯০৮ থেকে ১৯৩১ সাল পর্যন্ত টানা ২৩ বছর কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছিল। চারুচন্দ্র রায়ের বিখ্যাত শিষ্যদের মধ্যে ছিলেন বিপ্লবী কানাইলাল দত্ত, শ্রীশচন্দ্র ঘোষ, রাসবিহারী বসুর মতো বিপ্লবীরা। ১৯০৮ সালে ফাঁসির সাজা হয়েছিল বিপ্লবী কানাইলাল দত্তর।
সেই সব বিপ্লবীদের কথা যেন প্রাসঙ্গিক থাকে আজও, এই লক্ষ্যেই চন্দননগর কলেজের সেন্টার ফর হেরিটেজ স্টাডিজ-এর তত্ত্বাবধানে কলেজের ১৬১ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ভবনে স্থাপন করা হয় এই মিউজিয়াম। কলেজের অধ্যক্ষ দেবাশিস সরকার বলেন, “এটা ভারতের সশস্ত্র স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত বিপ্লবীদের স্মরণ করার একটি উদ্যোগ। এই মিউজিয়ামটি রূপায়ণের পেছনে রয়েছে বহু গবেষণা এবং জ্ঞানীগুণী একাধিক মানুষের উল্লেখযোগ্য অবদান। যে সব দুষ্প্রাপ্য তথ্য ও ছবি মিউজিয়ামে রাখা হয়েছে তা অনেক গবেষণার ফসল। বিপ্লবীদের কর্মকাণ্ড লন্ডনের পুলিশ রিপোর্ট থেকে সংগ্রহ করা।”
চন্দননগর কলেজ ক্যাম্পাসে প্রায় দুশো বছরের প্রাচীন একটি ভবন ছিল। সেই ভবনের পাঁচটি ঘরকে মিউজিয়ামে রূপান্তরিত করা হয়েছে। সেখানেই রাখা হয়েছে একাধিক বিপ্লবীর হাতে লেখা চিঠি থেকে শুরু করে পুলিশ রিপোর্ট, চরকা, ডিঙি নৌকা, প্রাচীন তাঁত, টাইপ মেশিন-সহ সশস্ত্র স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের নানান স্মৃতি। রয়েছে বিপ্লবীদের একাধিক দুষ্প্রাপ্য ছবি, মূর্তি, পুরোনো খবরের কাগজ এবং নানান ইতিহাস। শুক্রবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে মিউজিয়ামটি চন্দননগরের বিপ্লবীদের গৌরবময় স্মৃতির উদ্দেশে উৎসর্গ করা হয়। রাজ্য হেরিটেজ কমিশনের সদস্য পার্থরঞ্জন দাস, ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ সায়েন্স মিউজিয়ামের পরিচালক ডঃ নটরাজ দাশগুপ্ত, বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক গৌতম ঘোষ, চন্দননগরের মহানাগরিক রাম চক্রবর্তী- সহ আরও অনেকে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। চন্দননগর কলেজ মিউজিয়াম প্রাচীন এই শহরের সামাজিক-সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলেই মনে করছেন এলাকার মানুষ।