
শেষ আপডেট: 22 November 2023 16:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তাল রাজ্য-রাজনীতি। তার মধ্যেই এবার চাকরি বিক্রির অভিযোগ উঠল হাসপাতালেও। বুধবার সকাল থেকেই এই নিয়ে রণক্ষেত্র মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চত্বর।
সূত্রের খবর, হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মীর চাকরি পাইয়ে দেওয়া হবে প্রতিশ্রুতি দিয়ে কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল। চাকরি দেওয়াও হয় তাঁদের। কিন্তু কয়েক মাস কাজ করতে না করতেই অন্যায়ভাবে সেই কাজ থেকে বরখাস্তও করে দেওয়া হয় তাঁদের। তারপর মাস, বছর গড়িয়ে গেলেও আর সেই চাকরি ফেরত পাননি তাঁরা। শুধু তাই নয়, চাকরি দেওয়ার সময় যে টাকা নেওয়া হয়েছিল, সেই টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি।
সেই অভিযোগেই বুধবার বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে হাসপাতাল। প্রতিবাদীদের অভিযোগ, করোনার সময় লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ দেওয়া হয়েছিল তাঁদের। কাজ দিয়েছিলেন, মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের সিকিওরিটি সুপারভাইজার ইউ এন গোস্বামী। কিন্তু আড়াই বছর আগে সেই কাজ থেকে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মেডিক্যাল কলেজের সিকিউরিটি সুপারভাইজারের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন কর্মহারা সেই সব যুবক-মহিলারা। সুপারভাইজারকে ধরে শুরু হয় টানাটানি, ধাক্কাধাক্কি। বিক্ষোভের মুখে পড়ে সিকিউরিটি সুপারভাইজার দৌড়ে পালিয়ে যান। কিন্তু তাঁর গাড়ির সামনে রাস্তায় শুয়ে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। তাঁরাই উদ্ধার করেন সিকিওরিটি সুপারভাইরাজরকে।
এই প্রসঙ্গে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রিন্সিপাল ডাঃ অমিত দাঁ জানিয়েছেন, "এই ঘটনার সঙ্গে মেডিকেল কলেজের কোনও সম্পর্ক নেই। মেডিকেল কলেজে যাঁরা সিকিওরিটির কাজ করেন তাঁদের ভেন্ডারের সাহায্যে নেওয়া হয়। তাই ভেন্ডারকে কেউ টাকা দিয়েছে কি না দিয়েছে সেই প্রসঙ্গে আমাদের কিছু জানা নেই। করোনার সময় ভেন্ডারেরর সাহায্যে বেশ কিছু ছেলে মেয়েকে কাজে লাগানো হয়েছিল। যেহেতু এখন করোনা নেই, তাই আর তাদের কাজে রাখা হয়নি।" তবে এত বড় মেডিকেল কলেজে সিকিউরিটির অভাব রয়েছে, সেকথা মেনে নিয়েছেন তিনি।