
শেষ আপডেট: 5 May 2020 18:30
ভেসপা মান্দারিয়ানাদের বলা হয় ‘এশিয়ান হরনেট’। উষ্ণ ক্রান্তীয় অঞ্চলই এদের পছন্দের জায়গা। সাধারণত পাহাড়ের পাদদেশে বা জঙ্গল ঘেরা এলাকায় এদের দেখা মেলে। জাপানি ভীমরুল বা ‘জাপানিজ জায়ান্ট হরনেট’ আকারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভীমরুল। ভেসপারা এদেরই কাছাকাছি তবে আকারে একটু ছোট। দুই থেকে আড়াই ইঞ্চি লম্বা (৬.৪ সেন্টিমিটার), ডানা ছড়ালে প্রায় ৭৫ মিলিমিটার। এই ভেসপাদের বলে মারণ ভীমরুল। কারণ এদের হুলে এমন বিষ থাকে যা যে কোনও পূর্ণবয়স্ক মানুষকে নিমেষে কাবু করতে পারে। পতঙ্গবিদ ভেন-এরিক বলছেন, ৬ মিলিমিটার লম্বা হুল জামাকাপড় ভেদ করে শরীরে ঢুকতে পারে। আর এই ভীমরুলের আরও একটা প্রবণতা হল শিকারের শরীরে বারংবার হুল ফোটানো। একবার হুলের ছোবলেই যে বিষ ঢোকে সেটা আরও কয়েকবারে গোটা শরীরেই ছড়িয়ে যায়। এর টক্সিক উপাদান রক্তের মাধ্যমে শরীরে নানা অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। যার পরিণতি মৃত্যু।
মাটি খুঁড়ে বাসা তৈরি করে এরা। অনেক সময় ইঁদুর বা ওই জাতীয় প্রাণীর তৈরি করা গর্তে ঝাঁক বেঁধে বাসা তৈরি করে এই ভীমরুলরা। গাছের কোটরেও এদের দেখা মেলে। কীট, পতঙ্গ দিয়েই ভোজ সারে ভেসপারা। এদের আরও একটা প্রিয় খাদ্য হল মধু। মৌমাছির চাকে তাই হানা দিতে দেখা যায় এই ভীমরুলদের। ভেসপাদের ঝাঁক একবার মৌচাকে আছড়ে পড়লে তার দফারফা করে ছাড়ে। ওয়াশিংটন কৃষি দফতরের আধিকারিক কারলা স্যাপ বলেছেন, এমন ভীমরুলের উপদ্রব শুরু হলে মৌমাছি চাষেও বিস্তর ক্ষতি হবে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি রিপোর্ট বলছে, এই ভীমরুলদের আগমন কোথা থেকে হল সেটা এখনও জানা যায়নি। নানা জায়গা থেকেই এই ভীমরুলের খবর মিলছে। সাধারণত এই ভীমরুলরা মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়েই চলে। তবে যদি এদের ঘাঁটানো হয় তাহলে ফল মারাত্মক হতে পারে। কীভাবে এই ভীমরুল ছড়িয়ে পড়েছে সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।