দ্য ওয়াল ব্যুরো : গুলি চালিয়ে শিক্ষককে খুন করার অভিযোগ ছিল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সোমবার সকালে তাকে পিটিয়ে মারল জনতা। ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাকে বাঁচাতে পারেনি। ওই ঘটনার ভিডিও ছবি তুলে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। পূর্ব উত্তরপ্রদেশের কুশীনগরে ঘটেছে এই ঘটনা।
ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, বর্ম পরা কয়েকজন পুলিশ জনতাকে থামানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু তাতেও মার বন্ধ হচ্ছে না। অভিযুক্তের মাথাটি বার বার মাটিতে ঠুকে দিচ্ছে জনতা। মাথা থেকে রক্ত বেরোচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তি গোরখপুরের বাসিন্দা ছিলেন। অভিযোগ, তিনি তাঁর বাবার বন্দুক ব্যবহার করে এক শিক্ষককে গুলি করেছিলেন।
এর আগে ২০১৮ সালের জুলাই মাসে উত্তরপ্রদেশে গরুচোর সন্দেহে গণধোলাইয়ের ঘটনা ঘটে। চার ব্যক্তি মরা মোষের দেহ পিক আপ ভ্যানে চড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁদের দুজন হিন্দু, দুজন মুসলমান। মরা মোষের দেহ দেখে চড়াও হয় গ্রামবাসীরা। শুরু করে মারধর । রেহাই পাননি দুই হিন্দুও।
গ্রামবাসীদের ধারণা, মোষটিকে চুরি করে মেরে ফেলেছে চারজন। গণধোলাই চলছে এমন সময় উপস্থিত হয় পুলিশ। গ্রামবাসীদের বুঝিয়ে চারজনকে উদ্ধার করে আনে। উত্তরপ্রদেশের হাথরাসের ঘটনা।
চারজনকে মারধরের ভিডিও ছবি তোলে একাধিক জন। একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যাচ্ছে, জনতা তাদের ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে। ধৃতদের একজন হাত জোড় করে বলছে, আমি গরুচোর নই। এক কন্ট্রাক্টরের কাছে কাজ করি। সে আমাকে বলেছিল এই গ্রাম থেকে মরা মহিষের দেহ সংগ্ৰহ করে নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছে দিতে।
২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে বুলন্দশহরের কাছে মাহাউ গ্রামের কাছে কয়েকটি গরুর মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তারপরে স্থানীয় ৪০০ মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হয়। দ্রুত সেখানে পৌঁছে যান বজরং দলের নেতারা। পৌঁছায় পুলিশও। অভিযোগ, বজরং দলের নেতারা পুলিশকে আক্রমণ করার জন্য জনতাকে উস্কানি দেন। জনতা পুলিশের দিকে ইটপাটকেল ছোঁড়ে। পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালায়। পাথরের ঘায়ে আহত হয়েছিলেন পুলিশ ইনসপেক্টর সুবোধ কুমার সিং। তাঁকে গাড়িতে তুলে ড্রাইভার পালাতে চেষ্টা করেন। কিন্তু মাঠের ওপর দিয়ে পালাতে পারেননি। তিনি গাড়ি ফেলে পালিয়ে যান। জনতার মধ্যে থেকে সুবোধকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। তিনি নিহত হন।
এর পরে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। সেখানে তিনি গোহত্যাকারীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে বলেন। কিন্তু পুলিশ হত্যা নিয়ে কিছু বলেননি।