
প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 18 March 2025 20:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পানীয় জলের সংযোগ কাটা নিয়ে কসবায় তৈরি হওয়া অস্থির পরিস্থিতির জেরে এবার বড় পদক্ষেপ করল পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation)। মঙ্গলবার পুরসভার তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দেওয়া হল, এখন থেকে পুরসভার পানীয় জলের লাইন (Drinking Water Connection) কাটতে হলে পুরসভা থেকে অনুমতি নিতে হবে।
এদিন এক বিবৃতিতে কলকাতা পুরসভার তরফে পরিষ্কারভাবে জানানো হয়েছে, কোথাও পানীয় জলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হলে পুরসভার ডিজি (জল সরবরাহের) কাছ থেকে নিতে হবে অনুমতি। ঘটনার নেপথ্যে অনেকেই কসবা কাণ্ডের ছায়া দেখছেন।
কী ঘটেছে কসবায়?
গ্রীষ্ম সবে ব্যাটিং শুরু করেছে। এরই মধ্যে জলকষ্ট (Water problems) দেখা দিয়েছে কলকাতার কসবায় ১০৭ নম্বর ওয়ার্ডে। পরিস্থিতির জন্য তৃণমূল কাউন্সিলর লিপিকা মান্নাকে দায়ী করছেন বাসিন্দারা।
তাঁদের অভিযোগ, 'কাউন্সিলর নাকি বলেছেন, তোমরা ভোট দাওনি, তাই জলও দেব না!' সমস্যার সমাধানে বরো চেয়ারম্যান সুশান্ত ঘোষের দ্বারস্থ হয়েছে এলাকার ৪০ টি পরিবার। তিনি সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন স্থানীয় কাউন্সিলর। অন্যদিকে বিষয়টি সামনে আসতেই শাসকের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে বিরোধীরা।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, ৪০ টি পরিবারের বসবাসের জায়গায় চারটে কল ছিল। সেগুলি সরিয়ে খালের ধারে বসানো হয়েছে। ফলে পানীয় জল আনতে তাঁদের অনেক দূর যেতে হচ্ছে। এজন্য কাউন্সিলরকে দায়ী করে তাঁরা বলছেন, কাউন্সিলরকে কারণ জানতে চাওয়ায় তিনি বলেছেন, ভোট নেই, তাই জলও নেই। এমনকী জল পেতে হলে নিয়মিত পার্টির মিটিং মিছিলে হাঁটার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
বাসিন্দাদের অভিযোগের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন বরো চেয়ারম্যান সুশান্ত ঘোষ। তিনি বলেন, “কী কারণে সমস্যা সেটা দেখা হচ্ছে। তবে ভোট না দেওযার জন্য লাইন কাটা হয়েছে, এমন অভিযোগ ঠিক নয়।"
স্থানীয় কাউন্সিলর লিপিকা মান্না বলেন, “যাঁরা একথা বলছেন, তাঁরা রাজনীতি করার জন্যই বলছেন। আগে এলাকায় যেটুকু পানীয় জলের সমস্যা ছিল, আমি আসার পর নতুন করে জলের পাইপ লাই ন বসিয়ে ২৪টা কল দিয়েছি। তারপরও একথা বলার মানে কী?" এহেন অভিযোগ সামনে আসতেই সরব হয়েছে বিরোধীরা। বিজেপি নেতা সজল ঘোষ বলেন, "ভোটে জেতার পর তো কাউন্সিলর ওয়ার্ডের সকলের। এই সহজ সত্যটাও তৃণমূল মানে না। ওরা সবেতেই রাজনীতি করে।"
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতে শোরগোল তৈরি হয়। এরপরই এদিন এ ব্যাপারে বিজ্ঞপ্তি জারি করে পুরসভা জানিয়ে দিল, অনুমতি ছাড়া কোথাও জলের সংযোগ কাটা যাবে না।