সূত্রের খবর, অভিযানের লক্ষ্য ব্যবসায়ী বিবেক ঢনঢনিয়া ও গৌতম ঢনঢনিয়া-এর অফিস এবং বাসভবন। উদ্ধার হওয়া নথি থেকে প্রভাবশালী সংযোগের ছায়া মিলেছে।
.jpeg.webp)
নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 30 October 2025 21:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি (Municipal recruitment scam) মামলার নতুন ধাপ হিসেবে ইডি (ED) বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লেকটাউনের এক ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাট ও তারাতলার গোডাউনে অভিযান চালায়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে প্রায় ৩ কোটি টাকা নগদ ও অজস্র নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে (recover crores of rupees and jewelry)।
সূত্রের খবর, অভিযানের লক্ষ্য ব্যবসায়ী বিবেক ঢনঢনিয়া ও গৌতম ঢনঢনিয়া-এর অফিস এবং বাসভবন। উদ্ধার হওয়া নথি থেকে প্রভাবশালী সংযোগের ছায়া মিলেছে। ইডি-র তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অর্থের উৎস যাচাই করা হচ্ছে।
এর আগে, পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর অফিস, তাঁর ছেলের রেস্তোরাঁ এবং দক্ষিণ দমদমের কাউন্সিলার নিতাই দত্তের বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে ৪৫ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়েছিল। সেই সূত্র ধরেই লেকটাউনের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়। তারাতলার গোডাউনে গিয়েও রাতভর তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৩ কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়।
ইডি সূত্রে জানা গেছে, ওই ব্যবসায়ীর চার–পাঁচটি কোম্পানিতে ডিরেক্টরের দায়িত্ব রয়েছে। মূলত ২০০৪ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন তিনি। শহরে দুটি ফ্ল্যাট, বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে। গোডাউনে নগদ রাখা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে কোনও সদুত্তর পাওয়া যায়নি। ইডির তদন্তকারীরা খুঁজছেন, এই বিপুল সম্পত্তির পেছনে পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি সম্পর্কিত অর্থের লেনদেন রয়েছে কি না।
পুরনিয়োগ মামলায় মঙ্গলবার বেলেঘাটার সিআইটি রোড ও হেমচন্দ্র নস্কর রোডে ব্যবসায়ী দু’ভাইয়ের বাড়ি ও অফিসেও তল্লাশি চালানো হয়েছিল। প্রিন্সেপ ঘাটে একটি ঋণপ্রদানকারী সংস্থাতেও অভিযান হয়েছিল। তার আগে, সুজিত বসু ও তাঁর ছেলে সমুদ্র বসুর বাড়ি ও ধাবায় তল্লাশি চালানো হয়েছিল। তদন্তে জানা গেছে, সুজিত বসু যখন দক্ষিণ দমদমের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন, তখন অয়ন শীলের সংস্থা এবিএস ইনফোজেন পুরসভায় নিয়োগের সমস্ত বরাত পেত, এবং সংস্থাটি পরীক্ষার ওএমআর পরিচালনার দায়িত্বে ছিল।
এবার ইডির গোয়েন্দারা এই মামলায় নতুন করে সক্রিয় হয়েছেন এবং তদন্ত আরও গভীরে যাচ্ছে। তদন্তকারীদের দাবি, বাজেয়াপ্ত নথি থেকে আগামীদিনে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।