দ্য ওয়াল ব্যুরো : শেষপর্যন্ত জঙ্গি সংগঠন লস্কর ই তৈবার প্রধান হাফিজ মহম্মদ সৈয়দের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হল পাকিস্তানের আদালতে। ২০০৮ সালে মুম্বই হামলায় প্রধান অভিযুক্ত হাফিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে সন্ত্রাসবাদীদের সাহায্য করেছেন। বুধবার আদালতে হাফিজ সৈয়দ উপস্থিত হন। তাঁকে চার্জ পড়ে শোনানো হয়।
মুম্বই হামলায় ১৬০ জন মারা গিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কয়েকজন বিদেশি। পরে ভারত ও আমেরিকা লস্করকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। গত জুলাই মাসে পাকিস্তানের সন্ত্রাসদমন পুলিশ হাফিজকে গ্রেফতার করে।
কিছুদিন আগে ফ্রান্সের ‘লা মন্ডে’ পত্রিকায় সাক্ষাৎকারে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর বলেন, পাকিস্তান যদি ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চায়, তবে যে জঙ্গি নেতা ও অপরাধীরা সেদেশে লুকিয়ে রয়েছে, তাদের আমাদের হাতে তুলে দিক। তাঁর কথায়, “আমাদের সঙ্গে বহুকাল যাবৎ পাকিস্তানের সম্পর্ক ভালো নেই। কারণ পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদীদের তৈরি করে। পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গিরা ভারতে আক্রমণ চালায়। পাকিস্তান নিজেও একথা অস্বীকার করেনি।”
পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। এসম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে জয়শংকর বলেন, “আমাকে একটা প্রশ্নের জবাব দিন। যে দেশ প্রতিবেশীর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখতে ইচ্ছুক, সে খোলাখুলি সেই দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদত দেয় কেন?” পরে তিনি বলেন, পাকিস্তান নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়ে দেখাক, তারা সত্যিই ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা করতে চায়।
তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, পাকিস্তানের কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন? তিনি বলেন, “অনেকে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চালানোর পর পাকিস্তানে লুকিয়ে আছে। আমরা পাকিস্তানকে বলেছি, তাদের আমাদের হাতে তুলে দিন।”
গত সেপ্টেম্বরে লস্কর ই তৈবা সংগঠনের প্রধান হাফিজ সৈয়দকে সংশোধিত ইউএপিএ-তে সন্ত্রাসবাদী বলে ঘোষণা করা হয়। তার আগে রাষ্ট্রসঙ্ঘ জৈশ ই মহম্মদের প্রধান মাসুদ আজহারকে সন্ত্রাসবাদী বলে ঘোষণা করেছিল। এছাড়া মুম্বই বিস্ফোরণের প্রধান চক্রী দাউদ ইব্রাহিমও পাকিস্তানে লুকিয়ে রয়েছে। তাদের বন্দি করে ভারতে পাঠানোর জন্য পাকিস্তানকে বহুবার অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু ইসলামাবাদ তাতে সাড়া দেয়নি।