
শেষ আপডেট: 14 May 2019 18:30
১৩ মে কানাডায় ল্যান্ড করার আগে ১৮টি দেশে চক্কর কেটেছেন তরুণী। ব্রিটেনের উইক থেকে তাঁর জার্নি পাঁচটা ভাগে ভেঙেছে। আইসল্যান্ড, গ্রিনল্যান্ডও পাড়ি দিয়ে এসেছেন আরোহি। প্রথম ভারতীয় মহিলা পাইলট হিসেবে একা আটলান্টিক পাড়ি দেওয়া শুধু নয়, প্রথম মহিলা পাইলট হিসেবে ছোট্ট এয়ারক্রাফ্ট উড়িয়ে বরফে মোড়া গ্রিনল্যান্ড পাড়ি দিয়েও নজির গড়েছেন তিনি।
[caption id="attachment_104296" align="aligncenter" width="625"]
কেইথিয়ার মিসকুইটার সঙ্গে আরোহি[/caption]
মুম্বইয়ের বাসিন্দা আরোহি পন্ডিতের ছোটবেলা থেকে বিমান চালানোর শখ। প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর ‘উইমেন এমপাওয়ার এক্সপিডিশন’-এ যোগ দেন তিনি। ‘মাহি’— আরোহির সাধের লাইট স্পোর্টস এয়ারক্রাফ্টের নাম এটাই। খুবই হালকা সিঙ্গল ইঞ্জিন সাইনাস ৯১২ গোত্রের এই এয়ারক্রাফ্টটির ওজন ৪০০ কিলোগ্রামের আশপাশে। অনেকটা বুলেট মোটরবাইকের সঙ্গে তুলনা করা চলে। স্লোভানিয়ায় তৈরি এই গোত্রের লাইট স্পোর্টস এয়ারক্রাফ্টকে হালে লাইসেন্স দিয়েছে ডিরেক্টর জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন।
গত বছর জুলাইতে সহকর্মী ও বন্ধু কেইথিয়ার মিসকুইটার সঙ্গে এই এয়ারক্রাফ্টে চেপেই বিশ্বের নানা দেশ পাড়ি দিয়েছিলেন আরোহি। পঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাট হয়ে পাকিস্তান ছুঁয়ে তাঁদের এয়ারক্রাফ্ট একে একে অতিক্রম করেছিল ইরান, তুরস্ক, সারবিয়া, স্লোভানিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স ও ব্রিটেন। তবে আবহাওয়া মন্দ থাকায় আটলান্টিক পাড়ি দেওয়া হয়নি তাঁদের।
[caption id="attachment_104299" align="aligncenter" width="681"]
পরিবারের সঙ্গে আরোহি (বাঁ দিকে) ও কেইথিয়ার মিসকুইটা[/caption]
‘‘দেশের জন্য, বিশেষত মহিলাদের প্রতিনিধি হয়ে এই কাজটা করতে পেরে আমি খুবই গর্বিত। আটলান্টিক মহাসাগর পার হওয়া শুধু অ্যাডভেঞ্চার নয়, রোমহর্ষক অভিজ্ঞতা। দিগন্ত বিস্তৃত শূন্যতা, শুধুমাত্র আমি আর আমার ছোট্ট এয়ারক্রাফ্ট। সমুদ্র ও তার মাঝে উঁকি দেওয়া নানা আকারের দ্বীপ, এই সৌন্দর্য চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না।’’
মহিলা পাইলট হিসেবে ইতিহাস তৈরি করার পরেও বিন্দুমাত্র হেলদোল নেই আরোহির। বরং তাঁর অনুপ্রেরণা মহিলা পাইলট অ্যামেলিয়া ইয়ারহার্ট। ১৯৩২ সালের ২০ মে একা এয়ারক্রাফ্ট উড়িয়ে যিনি আটলান্টিক পাড়ি দিয়েছিলেন।
মুম্বইয়ের বরিভেলিতে এখন উৎসবের আবহ। আরোহি জানিয়েছেন, ভালো-মন্দ দুই রকম আবহাওয়াতেই বিমান ওড়ানোর অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ রয়েছে তাঁর। আকাশে ঘণ্টার পর ঘণ্টার উড়ানে অভ্যস্ত তিনি। গ্রিনল্যান্ড, সাইবেরিয়া, আইসল্যান্ডের অধিক উচ্চতায় ছোট এয়ারক্রাফ্ট বিনা দ্বিধায় ওড়াতে পারেন তিনি। আরোহির পরবর্তী লক্ষ্য আমেরিকা, রাশিয়া, চিন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুর্গম এলাকা। কোনও দিন একাকীই নিজের এয়ারক্রাফ্ট উড়িয়ে বেরিয়ে পড়বেন তিনি।