দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ যেন রামের সুমতি হওয়ার গল্প। ২০০৮ সালের লস্কর জঙ্গিদের মুম্বাই হামলাকে 'সর্বাধিক কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদী হামলা' হিসেবে চিহ্ণিত করল চিন। চিনের জিয়ানজিয়াং প্রদেশে জঙ্গি কার্যকলাপ বন্ধে রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের সমর্থনে প্রকাশিত একটি শ্বেতপত্রে সরকারি ভাবে মুম্বইয়ের সন্ত্রাসবাদী হামলাকে সর্বাধিক কুখ্যাত হামলা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
'সন্ত্রাস ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং জিয়ানজিয়াং প্রদেশের নাগরিক অধিকার রক্ষা' শিরোনামে চিনের তথ্যমন্ত্রক প্রকাশিত ওই শ্বেতপত্রে জানানো হয়েছে, সমস্ত পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে পড়া সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থায় আক্রান্ত মানবতা আজ গভীর সংকটের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। ওই শ্বেতপত্রে আরও বলা হয়েছে পৃথিবীর সর্বত্র সন্ত্রাস ও চরমপন্থার প্রসার ভয়ঙ্কর ভাবে শান্তি ও উন্নয়নকে প্রতিহত করছে এবং মানুষের জীবন ও সম্পত্তিহানি ঘটিয়ে চলেছে। পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি'র চিন সফরের সময়েই এই শ্বেতপত্র প্রকাশের সমাপতন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞমহল।
চলতি মাসের ১৩ তারিখেই রাষ্ট্র সংঘের নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত জইশ নেতা মাসুদ আজহারকে 'আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী' হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাবে ভেটো প্রয়োগ করে চিন। ভারতের পক্ষ থেকে চিনের এই পদক্ষেপকে 'হতাশজনক' বলে আখ্যা দেওয়া হয়। পুলওয়ামায় হামলার দায় জইশের তরফ থেকে নেওয়ার পরও চিনের এই অবস্থান শুধু ভারত নয় বিস্মিত করেছিল আমেরিকা সহ ইওরোপের দেশগুলিকেও। তার মাত্র ৬ দিনের মধ্যে এই শ্বেতপত্রের প্রকাশ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক স্তরে খুব স্বাভাবিক ভাবেই জল্পনা তৈরি করেছে।
মানবিক অধিকার সুনিশ্চিত করতে সমস্ত আন্তর্জাতিক সংস্থাকে সন্ত্রাস ও ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে দ্বিধাহীন যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে বলে অভিমত প্রকাশ করার পাশাপাশি সন্ত্রাস ও চরমপন্থাকে প্রতিহত করার জন্য কোনও দ্বিচারিতার অবকাশ রাখা উচিত নয় বলে মন্তব্য করা হয়েছে শ্বেতপত্রে। চিন সমস্ত ধরনের সন্ত্রাস ও চরমপন্থার বিরোধিতা করে কিন্তু সন্ত্রাসের প্রশ্নে কোনও নির্দিষ্ট দেশ বা সম্প্রদায়কে চিহ্ণিত করার প্রবণতার বিরোধী বলে স্পষ্ট মত প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে ২৬/১১–র মুম্বই হামলাকে 'সর্বাধিক কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদী হামলা' বলে অভিহিত করেও হামলার মূল চক্রী জামাত–উদ–দাওয়া'র শীর্ষ নেতার নিরাপদ আশ্রয়কারী দেশ পাকিস্তানকে 'সন্ত্রাসবাদের আঁতুরঘর' হিসেবে চিহ্ণিত করার দাবির বিরুদ্ধেও চিন তাদের অবস্থান জানিয়ে রাখল।