দ্য ওয়াল ব্যুরো : ২০১৫ সাল থেকে জামিনে মুক্ত ছিল মুম্বই হামলার প্রধান চক্রী জাকিউর রহমান লাকভি। শুক্রবার পাকিস্তানের জঙ্গিদমন আদালত তাকে ১৫ বছর কারাদণ্ড দিয়েছে। ৬১ বছর বয়সী লাকভি গত শনিবার পাকিস্তানের পাঞ্জাব থেকে গ্রেফতার হয়। আদালতের তরফে এদিন জানানো হয়েছে, লাকভির বিরুদ্ধে ১৯৯৭ সালের সন্ত্রাসদমন আইনের তিনটি ধারায় মামলা ছিল। জঙ্গিদের অর্থ যোগানোর অপরাধে তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতি ইজাজ আহমেদ বুট্টার সন্ত্রাসদমন আইনের তিনটি মামলার প্রতিটিতে পাঁচ বছর করে লাকভিকে মোট ১৫ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন। সেই সঙ্গে তাকে পাকিস্তানের মুদ্রায় ১ লক্ষ টাকা জরিমানা দিতে বলা হয়েছে। জরিমানা না দিতে পারলে প্রতিটি মামলায় তার কারাদণ্ডের মেয়াদ ছ'মাস করে বৃদ্ধি পাবে।
লাকভি আদালতে আবেদন করে যে, সে নির্দোষ। তাকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। অভিযোগ, জঙ্গি সংগঠন লস্কর ই তৈবার প্রধান লাকভি একটি ডিসেপেনসারি চালাত। তা থেকে যা আয় হত, তা পাঠাত জঙ্গিদের তহবিলে। পাকিস্তানের সন্ত্রাসদমন পুলিশ আদালতে জানিয়েছে, লাকভির বাড়ি পাঞ্জাবের রেনাল খুরদ ওকারা জেলায়। গ্রেফতারের আগে সে ইসলামাবাদে বাস করত।
২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে রাষ্ট্রপুঞ্জ লাকভিকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী ঘোষণা করে। অভিযোগ, জঙ্গি আল কায়েদা সংগঠনের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। সে জঙ্গি কার্যকলাপের ছক সাজাত এবং জঙ্গিদের জন্য অর্থ সংগ্রহ করত।
এর আগে ভারত সহ বহু দেশ অভিযোগ করেছে, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের ঘাঁটি হয়ে উঠেছে পাকিস্তান। গত সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, সন্ত্রাসবাদ এখন সারা বিশ্বের কাছেই বিপদ। তাদের মতাদর্শের ভিত্তি রয়েছে আমাদের প্রতিবেশী দেশে। সেদেশে সন্ত্রাসবাদের বাড়বাড়ন্ত হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি বলেন, ভারত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কয়েকটি দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছে। আগামী দিনেও নেবে।
জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা লোপ করার পরেই ভারতের বিরুদ্ধে একের পর এক বিবৃতি দিয়েছে পাকিস্তান। শুধু বিবৃতি দেওয়া নয়, পাকিস্তানে ঘাঁটি বানিয়ে থাকা জঙ্গিরাও কাশ্মীরে ঢুকতে তৈরি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। জম্মু-কাশ্মীরে হামলা চালানোর জন্য জৈশ ই মহম্মদের নেতা মৌলানা মাসুদ আজহারকেও জেল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে মোদী সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলে কার্যত পাকিস্তানকেই সতর্ক করে দিয়েছেন বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন জঙ্গিবাদ কোনও দেশের সীমানায় আটকে নেই। আমাদের প্রতিবেশী দেশে ওই মতাদর্শের শিকড় রয়েছে। এর পরেই মোদী বলেন, আমরা অতীতে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কয়েকটি কড়া পদক্ষেপ নিয়েছি। ভবিষ্যতেও নেব।
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে প্রতিটি রাষ্ট্রেরই ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত বলে মোদী মনে করেন। তাঁর কোথায়, সারা বিশ্বেরই উচিত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে শপথ গ্রহণ করা। যারা সন্ত্রাসবাদীদের প্রশিক্ষণ দেয় ও আশ্রয় দেয়, তাদের বিরুদ্ধে সব দেশকেই ব্যবস্থা নিতে হবে। এরপরে মোদী জানিয়ে দেন, ভারত নিজে সন্ত্রাসবাদের বিপদের মোকাবিলা করতে পারে।