দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুই যুগের তীব্র শত্রুতার তিক্ততা ভুলে বহুজন সমাজবাদী পার্টির নেত্রী মায়াবতীর পাশে একই মঞ্চে বসতে চলেছেন সমাজবাদী পার্টির প্রতিষ্ঠাতা 'নেতাজি' মুলায়ম সিং যাদব। মইনপুরি লোকসভা কেন্দ্রের সপা–বসপা জোটের প্রার্থী মুলায়ম সিং–এর সমর্থনে যৌথ জনসভায় এই দুই নেতা–নেত্রীকে আবার একই মঞ্চে দেখতে চলেছে উত্তরপ্রদেশের মানুষ।
১৯৯৩ সালে বহুজন সমাজবাদী পার্টির তদানীন্তন প্রেসিডেন্ট কাঁসিরামের সঙ্গে জোট করেই মুলায়ম সিং যাদব জোট সরকার গড়েছিলেন উত্তরপ্রদেশে। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন মুলায়ম। কিন্তু দুবছর যেতে না যেতেই সেই জোটে ভাঙন ধরে এবং বহুজন সমাজবাদী পার্টি সরকার থেকে তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়। এরপরই ঘটে 'কুখ্যাত' গেস্ট হাউস কাণ্ড'। ১৯৯৫ সালের ২ জুন বসপা–র সেক্রেটারি মায়াবতী তাঁদের দলের বিধায়কদের নিয়ে লখনৌ শহরে মীরাবাঈ গেস্টহাউসে ভবিষ্যত কর্মসূচি নির্ধারণের জন্য একটি বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠক চলাকালীন হঠাৎ সমাজবাদী পার্টির বেশ কয়েকজন নেতা ও কর্মী হামলা চালায় সেই গেস্টহাউসে। আক্রমণকারীদের হাত নিগৃহীত হন মায়াবতী। হামলাকারীদের অশ্রাব্য গালিগালাজ এবং শারীরিক নিগ্রহের হাত থেকে তাঁকে বাঁচান বিজেপি বিধায়ক ব্রহ্ম দত্ত যিনি বসপা–র ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার পরদিনই অর্থাৎ ৩ জুন বিজেপি'র সমর্থনে সরকার গঠন করে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হন মায়াবতী।
এই ঘটনার ২৩ বছর পর মূলত মুলায়ম পুত্র অখিলেশের উদ্যোগে রাজ্যের অন্তর্বর্তী নির্বাচনে ২০১৮ সালে সপা–বসপা রাজনৈতিক বাধ্যতায় জোটবদ্ধ হয় এবং সফল ভাবে উত্তরপ্রদেশের গোরখপুর ও ফুলপুরে ভারতীয় জনতা পার্টিকে পরাজিত করে বিজেপি'র অপ্রতিহত গতিকে রুখে দেয়। এই বাস্তবতায় মায়াবতী বুঝতে পারেন নিজের এবং দলের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষা করতে হলে অতীতের লাঞ্ছনা ও অপমানের স্মৃতিকে ফিকে করা ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু 'নেতাজি' বসপা'র সঙ্গে তাঁর দলের জোট নিয়ে প্রকাশ্যেই অসন্তোষ প্রকাশ করে গিয়েছেন ক'দিন আগে পর্যন্তও। অভিযোগের তিরটি ছিল স্বভাবতই পুত্র অখিলেশের দিকে। দলের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রভাবশালী নেতার এই মন্তব্যে যথেষ্ট অপ্রস্তুত বোধ করেছিলেন অখিলেশ। তাঁকে বারবার প্রমাণ করতে হচ্ছিল যে, মুলায়ম প্রকাশ্যে যাই বলুন, একান্তে তিনি পুত্রের কার্যকলাপকে সমর্থন করছেন। ১ এপ্রিল মুলায়মের উপস্থিত থাকার কথা সত্ত্বেও জনসভায় না এসে যখন সমাজবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা মনোনয়ন পত্র জমা দিয়ে সোজা গ্রামের বাড়ি চলে যান তখন প্রায় মরিয়া হয়ে অখিলেশকে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বলতে হয়, যে ভাবেই হোক ১৯ এপ্রিলের জনসভায় তিনি 'নেতাজি'কে হাজির করবেনই।।
সেই ১৯ এপ্রিলের জনসভা নিয়েই তৈরি হয়েছে প্রবল উদ্দীপনা ও কৌতূহল। ২৪ বছর পর অতীতের সমস্ত বিরূপতাকে অগ্রাহ্য করে মায়াবতী ও মুলায়ম বসতে চলেছেন একই মঞ্চে যা দু'বছর আগে কল্পনা করাও ছিল অসম্ভব। মঞ্চে এই দুই নেতা ও নেত্রীর সঙ্গে থাকবেন অখিলেশ যাদব ও অজিত সিং। সত্যিই কি আসবেন মুলায়ম? সংশয়ীদের এমন প্রশ্নের উত্তরে সমাজবাদী পার্টির সূত্রে বলা হচ্ছে, যে প্রার্থীর সমর্থনে জনসভা সেখানে স্বয়ং প্রার্থী থাকবেন না এমন কখনও হয়? সভা শুরু না হওয়া পর্যন্ত উত্তরের জন্য অপেক্ষা করে রয়েছে কৌতূহলী জনতা।