দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিকিত্সার জন্য চেন্নাই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে মুকুল রায়ের স্ত্রী কৃষ্ণা রায়কে। সেখানে তাঁর ফুসফুস প্রতিস্থাপন করা হতে পারে বলে খবর। শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি তিনি, সেখান থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত গ্রিন করিডোর করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তাঁকে।
মে মাসে কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিলেন মুকুলবাবু ও তাঁর স্ত্রী। মুকুলবাবু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে এলেও তাঁর স্ত্রী কৃষ্ণা রায়ের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। অ্যাপোলো হাসপাতালে তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখতে হয়েছিল। প্রথম থেকেই ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিটে ছিলেন তিনি। পরে ভেন্টিলেশন সাপোর্ট দিতে হয়।
এর পরে একমো সাপোর্টে রাখতে হয় তাঁকে। একমো হল একস্ট্রা কর্পোরিয়াল মেমব্রেন অক্সিজেনেশন। ফুসফুস ও হৃৎপিণ্ড দু’টিই কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেললে এটি ব্যবহার করে শরীরে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়। বাইপাস বা ভালভ প্রতিস্থাপনের সময়েও এই প্রক্রিয়া চলে। যন্ত্রের মাধ্যমে শরীরের সমস্ত রক্তের সার্কুলেশন করা হয়। কৃত্রিম উপায়ে তা থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড শুষে নিয়ে রক্তে অক্সিজেন প্রবেশ করানো হয়।
এই অবস্থায় একসময় চিকিৎসকরা জানান, মুকুলবাবুর স্ত্রীর ফুসফুস খুবই ক্ষতিগ্রস্ত। ফুসফুস প্রতিস্থাপন করতে হবে তাঁর। সেই জন্য ব্রেন ডেথ হয়েছে এমন ফুসফুস দাতার সন্ধানও চলছিল। অবশেষে, আজ বুধবারই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তাঁকে।
বস্তুত, মুকুল রায় ও তাঁর স্ত্রী অসুস্থ হওয়ার পর থেকেই বিজেপির সঙ্গে দূরত্ব ক্রমশ বাড়ছিল। কিছুদিন আগেই শুভ্রাংশুর গলায় অসন্তোষ ও অভিমান ঝরে পড়েছিল। অভিমানের বিষয় হল, এক মাত্র শুভেন্দু অধিকারী আর দিব্যেন্দু অধিকারী ছাড়া তাঁর কোভিডে আক্রান্ত মা ও বাবার শরীর স্বাস্থ্য নিয়ে বিজেপি পরিবারের কেউ কোনও খোঁজখবর নেননি। শুভ্রাংশ রায় বলেছিলেন, “এই যে বাবার কোভিড হয়েছে, দলের কেউ খোঁজ নিয়েছে? বলা হয় দল একটা পরিবার। এই তার নমুনা। আমার মা হাসপাতালে এক পক্ষ কালের বেশি চিকিৎসাধীন। কেউ কোনও খোঁজ নেননি!”